রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লংমার্চ রাজপথের ষড়যন্ত্র, গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা: রিজভী ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলায় জামায়াত আমিরকে কড়া জবাব দিলেন শাহাদাত সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে : ধর্মমন্ত্রী দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পরিকল্পনা নিয়ে পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর ইন্দোনেশিয়ার বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ক্ষণিকের দেখায় এক অনন্য আত্মিক বন্ধন ইশতেহার বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার যমুনার চরাঞ্চলে চাষাবাদে কৃষকদের সচ্ছলতা কৃষি সময় বালিয়াকান্দিতে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১০ দিনের কারাদণ্ড

‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলায় জামায়াত আমিরকে কড়া জবাব দিলেন শাহাদাত

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : 3:30 pm, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন চসিক মেয়র।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় এ জবাব দেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

চসিক মেয়র বলেন, জামায়াতের আমির লালদিঘীতে মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়রের কথা বলেছেন। আমি এটা বলতে চাই, আমার রায়টি যারা ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী রাজত্ব কায়েম করেছে, সেই হাসিনা সরকার ছিনিয়ে নিয়েছে। আমার রায়টা জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যিনি অবৈধভাবে মেয়র হয়েছিলেন রেজাউল করিম, সেই রায়ের বিরুদ্ধে আমি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করি। ওই মামলার রায়েই কিন্তু বৈধভাবে আমাকে মেয়র হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে এবং তিনি শপথ নিয়েছেন। রায়টি ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় এবং আজকে যারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতারা আছেন, সেখানেও তারা ওই সরকারের বিভিন্ন পদে অধীন ছিলেন।

ডা. শাহাদাত বলেন, যে রায় জনগণের প্রত্যাশিত, তিন বছর ধরে আমি ফাইট করেছি, যে মামলাটি করার জন্য ছয় মাস ধরে আমাকে জেলে থাকতে হয়েছে এবং বারবার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ বছর আমার প্রায় ১১০টির উপরে মামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি ঐতিহাসিক রায় এবং এই রায়ের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনকে সেখানে চ্যালেঞ্জ করে এই রায়টি দেওয়া হয়েছে। সেখানে জামায়াতের আমির সাহেব বলছেন যে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হচ্ছে। আমি বলতে চাই, ওনার এ কথার মধ্যে দিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, আওয়ামী লীগের যে ফ্যাসিবাদী সময়ের পাঁচ বছর, সেই পাঁচ বছরকে উনি বলতে চাচ্ছেন বৈধ সময়।

ডা. শাহাদাত হোসেনের দাবি, রায়ে স্পষ্ট বলা আছে যে আওয়ামী লীগের যে মেয়র ছিল, তিনি অবৈধ এবং তার টেনিউর যেটা ছিল, সেটাও অবৈধ। কাজেই আমার যে মেয়াদ ২০২৪ সাল, সেই ২৪ সালের নভেম্বরের ৩ তারিখ আমি শপথ নিয়েছি। সেখান থেকে স্বাভাবিকভাবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত আমার মেয়াদ থাকবে।

তবে জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে তিনি প্রস্তুত আছেন বলেও জানান ডা. শাহাদাত। তিনি বলেন, যখনই একটি নির্বাচন চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে, সেই নির্বাচন করার জন্য আমি প্রস্তুত আছি। ইতোমধ্যে আমার বক্তব্য আপনারা সব জায়গায় দেখেছেন। আমি বলেছি, সবারই অধিকার আছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং আমরা সবাই মিলেই একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন করতে চাই।

জামায়াত আমিরের বক্তব্যে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, এ অবস্থায় এসে ওনার এই বক্তব্যে আমি আসলে সত্যি বিস্মিত হয়েছি। আমি মনে করি, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উনি আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিস্ট কায়দায় যে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিল ২০২১ সালে, সেই ফ্যাসিস্ট রেজাউল করিমকে উনি বৈধভাবে মেয়র হিসেবে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন এবং এই রায়, এই কথার মাধ্যমে উনি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিজমকে সেখানে অনেকটা সাপোর্ট করে গেছেন।

ডা. শাহাদাত বলেন, আমি বরাবরই ছাত্রজীবন থেকে সুন্দর, নির্মল পলিটিক্স করে এসেছি এবং গণতন্ত্রকে আমি সম্মান করেছি। গত ১৭ বছর মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকার থেকে শুরু করে আজ অবধি আমি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি।

নিজের মেয়াদের বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো আমি বারবার বলছি, যদিও আমার কোর্টের রায় অনুযায়ী মেয়াদ ২৯ সাল, কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ যখনই চট্টগ্রামের নির্বাচনের তারিখ ডিক্লেয়ার করবে, সেদিনেই আমি আমার পদ থেকে নিজেই সরে যাব এবং আমি একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্বাগত জানাব।

তিনি আরও বলেন, এখানে কোনো ভুল বোঝাবুঝির কিছুই নেই। আমি সবসময় যে কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্বাগত জানাই। আমি মনে করি, এই নির্বাচনে যারাই অংশগ্রহণ করতে চায়, অবশ্যই তারা অংশগ্রহণ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com