
জেলার লাকসাম উপজেলায় যুবক সাইফুল ইসলাম সোহান (২৫)হত্যা মামলায় মো. মিজানুর রহমান হাজারী (৬৫) নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে একই মামলার অপর আসামি ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের (২৯) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত)-এর বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির মৃত আলী হোসেনের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম সোহানের সঙ্গে মিজানুর রহমানের বাকবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোহানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে প্রথমে মুজাফফরগঞ্জ হেলথ কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১৮ মে রাতে তিনি মারা যান।
ঘটনার পর নিহতের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমান হাজারী ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাড. মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার জানান, বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, উপস্থাপিত আলামত ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন। অপরদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।