
ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের তোষামোদকারী এবং বিতর্কিত ভূমিকা রাখা বেশ কিছু শিল্পী, অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বর্তমান অবস্থান ও পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বিদেশে আত্মগোপনে বা পলাতক
ফেরদৌস আহমেদ (সাবেক সংসদ সদস্য): শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। ধারণা করা হয় তিনি দেশের বাইরে চলে গেছেন বা বিদেশে অবস্থান করছেন।
রিয়াজ: আন্দোলনের সময় ছাত্রদের বিপক্ষে সামাজিক মাধ্যম ও ‘আলো আসবেই’ গ্রুপে সরব অবস্থান নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষ থেকে নিখোঁজ এবং দেশত্যাগ করেছেন বলে জানা যায়।
২. গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে
শমী কায়সার: ছাত্র আন্দোলনের সময় বিতর্কিত ভূমিকা পালন ও আন্দোলনকারীদের দমনচেষ্টার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং বর্তমানে কারাগারে আছেন।
সুবর্ণা মুস্তাফা (সাবেক সংসদ সদস্য): সরকারের পলায়নের পর তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন কিংবা বেশ কয়েকটি মামলায় আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন।
৩. দেশে আত্মগোপনে বা নিষ্ক্রিয়
আজিজুল হাকিম, রোকেয়া প্রাচী ও সুচরিতা: আন্দোলনে শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়ে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে কথা বলায় গণঅসন্তোষের মুখে পড়েছেন। বর্তমানে তারা সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন ও মিডিয়া কার্যক্রম থেকে দূরে আত্মগোপনে রয়েছেন।
অন্যান্য ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপভুক্ত শিল্পীরা: চঞ্চল চৌধুরীসহ অনেকেই আন্দোলনের পর জনরোষ এড়াতে সোশ্যালি নিষ্ক্রিয় হন এবং পরবর্তীতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করলেও তোষামোদকারী হিসেবে ব্যাপকভাবে সমালোচিত।
৪. জনরোষের শিকার ও বয়কট
সংস্কৃতি অঙ্গনের যেসব শিল্পী সরাসরি স্বৈরাচারের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন, তারা বর্তমানে সাধারণ মানুষের বয়কট ও তীব্র সমালোচনার শিকার হচ্ছেন। নাটক, সিনেমা কিংবা বাণিজ্যিক প্রচারণায় তাদের প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ বা বর্জন করা হচ্ছে।