গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৭ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার। বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত রুটি বেকারীর কারখানা মালিক রাজ্জাক মিয়াকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও গণমিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা ও এলাকাবাসী।
বলাৎকার হওয়া ঐ শিশু ধোপাডাঙ্গার আশার আলো বিদ্যাপীঠের প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের নতুন বাজার আশার আলো বিদ্যাপীঠের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন শেষে এক গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।এতে ঐ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
মানববন্ধনে ঐ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ স্থানীয় লোকজন বক্তব্য রাখেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজীবপুর গ্ৰামের মৃত মোন্তাজ আলীর ছেলে মোঃ রাজ্জাক মিয়া শিশু শিক্ষার্থীকে পাউরুটি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার রুটি বেকারীর কারখানায় নিয়ে যায়।এরপর জোর পূর্বক ঐ শিশু শিক্ষার্থীকে মাটিতে শুইয়ে বলাৎকার করে। শিশুটির আর্তচিৎকারের আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে বলাৎকারী পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন শিশু শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিশু শিক্ষার্থীকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে। বর্তমানে সদর হাসপাতালে ঐ শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর শিশুটির দিনমজুর বাবা মোঃ উজ্জ্বল মিয়া সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এ রিপোর্ট করা পর্যন্ত এখনো কোন মামলা হয়নি থানায়।
তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাজ্জাক মিয়া পলাতক রয়েছেন।
আশার আলো বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, এমন ঘটনার পর শিশুরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আজকে এক শিক্ষার্থী বলাৎকার হয়েছে ,আগামীতে আমার আপনার ছেলেমেয়েরাও হতে পারে। তাই আমাদের সকলের দাবি বলাৎকারকারীর উপযুক্ত বিচার হওয়া। প্রশাসনের উচিত দ্রুত বলাৎকারকারীকে গ্ৰেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা।
সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। বাদীকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র আনার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত করে মামলা রেকর্ড করা হবে।