আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ জেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন খামার ও গ্রামীণ পরিবারে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া লালন-পালনে চলছে বাড়তি যত্ন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হবে এখানকার পশু।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের ৯ উপজেলায় এবছর কোরবানির জন্য বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার। তবে চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত রয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭২৩টি পশু, যা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
খামারিরা জানান, দফায় দফায় গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় পশু পালন ব্যয় অনেক বেড়েছে। খাবার, ওষুধ ও পরিচর্যার খরচ বাড়লেও বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবসায়ীরাও মনে করছেন, গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কোরবানির পশুর বাজারেও পড়তে পারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, পশু মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার না করতে খামারিদের নিয়মিত সচেতন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
জেলায় কোরবানির পশু বিক্রির জন্য ২৭টি স্থায়ী ও ২০টি অস্থায়ী পশুর হাট প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব হাটে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি থাকবে বলে জানা গেছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আনোয়ারুল হক বলেন, “প্রতিটি উপজেলার খামার নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের খামারিরা এখন অনেক সচেতন। তারা কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন।”