সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আফ্রিকায় অর্থনৈতিক শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপের পক্ষ নিলেন ফ্রান্সের মাখোঁ হরমুজ প্রণালী নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক ডাকছে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স ১২০ রানে এগিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে বাংলাদেশ নোবিপ্রবিতে বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস পলিত ভিন্নমতের ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশ সদস্যদের একযোগে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজবাড়ীতে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ আসামী গ্রেফতার অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন করলেন এমপি সেলিম রেজা কাজিপুর উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা উত্তম কৃষি চর্চা নিশ্চিতে জয়পুরহাটের কালাইয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত সুন্দরগঞ্জে পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভদের মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জে যমুনার চরাঞ্চলে কালোজিরা চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

টি এম কামাল, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ।
  • আপডেট সময় : 5:59 pm, রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে কালোজিরা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। বাজারে এর বহুমুখী চাহিদা থাকায় কৃষক ভাল দাম পাচ্ছেন, তাদের লাভ হচ্ছে। যে কারণে কৃষকরা দিন দিন এ রবিশস্য চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষি কার্যালয় জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যমুনা নদী বিধৌত চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলের সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি ও বারবয়লাচর, স্থল ইউনিয়নের সন্তোষা, মালীপাড়া ও গোসাইবাড়ি চর, ঘোরজান ইউনিয়নের ফুলহারা, উমারপুর ইউনিয়নের দত্তকান্দি, খাসকাউলিয়া ইউনিয়নের জোতপাড়া ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে কালোজিরার চাষ হয়েছে। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে কালোজিরা চাষ শুরু হয়। মার্চ মাসের শেষে দিকে শুরু হয় ফসল কর্তণ। প্রতি বিঘায় চার মণ কালোজিরা উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি মণ কালোজিরার বাজার মূল্য ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা।

উপজেলার স্থল ইউনিয়নের মালীপাড়ার কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, এ বছর এক বিঘা জমিতে কালোজিরা চাল করেছিলাম। এতে ব্যয় হয়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। চার মণ কালোজিরা উৎপাদন হয়েছে। প্রতি মণ কালোজিরা বিক্রি করে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। একই ইউনিয়নের গোসাইবাড়ি চরের কৃষক নুর আলম বলেন, “কালোজিরা চাষ একটি লাভজনক ফসল। এ বছর উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে পাওয়া রাসায়নিক সার ও বীজ নিয়ে কালোজিরা চাষ করেছিলাম। ফলন ভাল হয়েছে।” উপজেলার সন্তোষা ব্লকে দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু হুরাইয়া বলেন, কালোজিরার জমি চাষ, বীজ বপণ, সার ও কীটনাশক প্রদান, আগাছা দমন, ফসল কর্তণ ও সংগ্রহ করতে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়ে থাকে। বীজ বপনের সর্বোচ্চ ১৩০ থেকে ১৫০ দিনের মধ্যে কৃষকরা এ ফসল ঘরে তুলতে পারেন। বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা ক্রমশ এ ফসল চাষে ঝুঁকছেন।

চৌহালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, রবি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন চরে ২৯ হেক্টর জমিতে কালোজিরার চাষ হয়েছে। যমুনা চরের মাটি পলিবাহিত হওয়ায় কালোজিরা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর কালোজিরার বাম্পার ফলন হয়েছে।কালোজিরার গুণাগুন বর্ণনা করে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, কালোজিরা আয়ুর্বেদীয়, ইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। মশলা জাতীয় এই ফসল পাঁচ ফোড়নের একটি উপাদান। ভর্তা করেও এটি খাওয়া যায়। এর বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়। কালোজিরাতে ফসফেট, লৌহ ও ফসফরাস জাতীয় উপাদানসহ প্রায় শতাধিক পুষ্টি ও উপকারী উপাদান রয়েছে।

এ ছাড়া ক্যানসার প্রতিরোধক, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী এবং অম্লরোগের প্রতিষেধক। কালোজিরা খাদ্যাভাসের ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কালোজিরা ফুলের মধু উৎকৃষ্ট হিসেবে বিশ্বব্যাপী বিবেচিত। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে কালোজিরার ফুল ফোটে, তখন মৌমাছিরা এর নেক্টার সংগ্রহ করে। এই মধুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। কালোজিরার তেল শরীরের জন্য অনেক উপকারী। বর্তমানে কালিজিরা ক্যাপসুলও বাজারে পাওয়া যায়।

কৃষি কর্মকর্তা মনজুরে মাওলা বলেন, সরকারি প্রণোদনা পেলে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চল অধ্যুষিত পাঁচটি উপজেলা কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলায় এই কালোজিরার চাষ আরো ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। # 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com