সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোড়াঘাট শতকণ্ঠে গীতা পাঠে মুখরিত বিশ্ব মানবতার কল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা সিরাজগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষকের আধা পাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ নজরুলের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি: অস্তিত্বের সংকট নাকি নতুন উত্থানের হাতছানি? রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদনে নতুন রেকর্ড নীলফামারীতে ফিলিং স্টেশনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনাকে ঘিরে বুড়িমারী স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি স্থগিত বগুড়ায় বৈদ্যুতিক সেলাই মেশিন বিস্ফোরণে কিশোরীর মৃত্যু কাজিপুরে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে বাংলাদেশ প্রেস ইউনিটির মুক্ত সভা কাজিপুরে ৩৭৫৯২ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা, শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন সম্পন্ন

সুন্দরবনে ফিরছে দস্যু আতঙ্ক: ব্যবসায়ীদের ‘টোকেন’ বাণিজ্যে জিম্মি জেলেরা

​নিজস্ব প্রতিবেদক,.রফিকুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : 11:23 am, সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

খুলনা বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বনদস্যু বাহিনী। দস্যুদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও শারীরিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বনজীবী জেলে ও বাওয়ালীরা। বর্তমানে ৫ থেকে ৬টি সক্রিয় দস্যু গ্রুপের কাছে প্রতিনিয়ত জিম্মি হচ্ছেন সাধারণ জেলেরা, যার ফলে জীবিকার তাগিদে বনে প্রবেশ করতেও এখন তারা আতঙ্ক বোধ করছেন।

​মাছ ও কাঁকড়া ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে চলছে চাঁদাবাজি: অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরাসরি বনের ভেতর চাঁদা নেওয়ার পাশাপাশি লোকালয়ের নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে চলছে এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট। সুন্দরবন সংলগ্ন জোড়শিং, ৪নং কয়রা, পল্লীমঙ্গল, দেউলিয়া বাজার, মহারাজপুর ও আংটিহারা এলাকার ১০-১২ জন অসাধু মাছ ও কাঁকড়া ব্যবসায়ী এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। দস্যু বাহিনীর পক্ষে তারা নৌকা প্রতি ৪ হাজার টাকার বিনিময় একটি করে ‘নিরাপত্তা কার্ড’ বা টোকেন ইস্যু করছে। এই কার্ড সংগ্রহ করলেই কেবল জেলেদের বনে প্রবেশের ‘অনুমতি’ মিলছে। এভাবে প্রতি মৌসুমে জেলেদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দস্যু চক্রটি।

​নির্যাতনের মুখে বনজীবীরা: নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়রার কয়েকজন জেলে জানান, নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া মূল্যে কার্ড নিলে দস্যুরা কোনো ঝামেলা করে না। কিন্তু কোনো জেলে কার্ড ছাড়া বনে প্রবেশ করলে তাকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মহারাজপুর বড় ব্রিজ এলাকার কাঁকড়া ব্যবসায়ী রব্বানীর নাম উঠে এসেছে এই কার্ড বাণিজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে। তার কাছে গেলেই দস্যু বাহিনীর সেই ‘টোকেন’ সহজেই পাওয়া যায় বলে জেলেরা অভিযোগ করেছেন।

​আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: সুন্দরবনে দস্যুদের এই পুনঃউত্থান এবং প্রকাশ্য চাঁদাবাজির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবগত থাকলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ বনজীবীদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। জীবিকার সংকট আর দস্যুদের নির্যাতন—এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার মৎস্যজীবী।

​দ্রুত এই দস্যু বাহিনী ও তাদের স্থানীয় সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে সুন্দরবনকে নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com