ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর সশস্ত্র হামলার মামলার আসামী ও স্বৈরাচারের দোসর আবুল হাসান। সে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাধীন সোহাগী ইউনিয়নের ভালুকবেড় গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সবুজের ছেলে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ঠা আগস্ট ২০২৪ তারিখে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে ছাত্র-জনতার উপর দলবদ্ধভাবে সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ, ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ সহ হত্যার চেষ্টার অভিযোগে গত ১লা ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়, যার নং ৮(১২)২৪ (জিআর- ৭৬৯/২৪)। উক্ত মামলার এজাহারভুক্ত ৮৪ নম্বর আসামী সে। মামলা দায়েরের ১০ দিন পরেও আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, এই মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে। সে নারী নির্যাতন (ঈশ্বরগঞ্জ জিআর- ২৪১/২৩), সাংবাদিক হত্যার চেষ্টা (ঈশ্বরগঞ্জ জিআর- ২৬৬/২২) সহ একাধিক ফৌজদারি মামলার চার্জভুক্ত আসামী। এসব মামলায় সে ইতোপূর্বে হাজত খেটেছে। কিন্তু থেমে নেই তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
স্থানীয় লোকজন জানান, আবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিলো। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জে হলেও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সখ্যতা ও উঠাবসা রয়েছে বলে সে এলাকায় প্রচার করতো। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর সে এখন মুখোশ পাল্টে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী হওয়া স্বত্বেও সে এখনো এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে দেখে তারা অবাক ও শঙ্কিত। জনমনে প্রশ্ন, কিসের শক্তিতে সে এখনো প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়? আসামী হাসানকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান তারা।
এই ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে গত ৮ই ডিসেম্বর রবিবার কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আসামীকে গ্রেফতারের জন্য ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করা হবে।” ১২ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মোঃ ওবায়দুর রহমান জানান, “এখনো এই আসামীকে গ্রেফতারের বিষয়ে কোনো অনুরোধ পাইনি। অনুরোধ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”