ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আওয়ামী গণহত্যাকারীদের এক দোসর খোলস পরিবর্তন করে বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আবুল হাসান। সে উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের ভালুকবেড় গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজের ছেলে। এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিএনপির প্রকৃত নেতা-কর্মীরা।
স্থানীয় লোকজন জানান, আবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিলো। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর সে এখন মুখোশ পাল্টে যুবদলের নেতা পরিচয়ে অপকর্ম চালাচ্ছে। ইদানীং বিএনপির মিটিং-মিছিল ইত্যাদি বিভিন্ন প্রোগ্রামে তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি নিজেকে সে যুবদলের ৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছে।
অভিযুক্ত হাসানের প্রতিবেশী বিএনপি নেতা এটিএম শাহজাহান বলেন, “বিএনপি করার অপরাধে বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে আবুল হাসানের অত্যাচারে ৪-৫ মাস আমি নিজ বাড়িতে থাকতে পারিনি। আমাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সে বার বার আমার বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সে প্রকাশ্যে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে এখন বিএনপির বিভিন্ন প্রোগ্রামে তার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি বিস্ময়কর।”
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা লিটন আল সাগর বলেন, “আবুল হাসান একজন সুযোগ সন্ধানী ও সুবিধাবাদী লোক। তার কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সে সেই দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করে বেড়ায়। কিছুদিন আগেও সে নিজেকে আওয়ামী লীগার দাবী করতো। অথচ এখন সে ইউটার্ন নিয়ে নিজেকে বিএনপির নেতা দাবী করছে। শুনেছি সে নাকি ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী। আজব ব্যাপার!”
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ঠা আগস্ট ২০২৪ তারিখে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে ছাত্র-জনতার উপর দলবদ্ধভাবে সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ, ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ সহ হত্যার চেষ্টার অভিযোগে গত ১লা ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়, যার নং ৮(১২)২৪। উক্ত মামলার এজাহারভুক্ত ৮৪ নম্বর আসামী সে। এই মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বহু ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সে নারী নির্যাতন, হত্যার চেষ্টা সহ একাধিক মামলার চার্জভুক্ত আসামী। এসব মামলায় ইতোপূর্বে সে জেলও খেটেছে।
এই ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে সোহাগী ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসরুল্লাহ খান মোজাহেদী বলেন, “আবুল হাসান বিএনপির কেও নয়। বিএনপিতে কোনো অনুপ্রবেশকারীর ঠাঁই নেই৷ ওর ব্যাপারে উপজেলার নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হবে।”