ঈশ্বরগঞ্জে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর সশস্ত্র হামলার মামলার আসামী ও স্বৈরাচারের দোসর আবুল হাসান। গত ৪ঠা আগস্ট ২০২৪ তারিখে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে ছাত্র-জনতার উপর দলবদ্ধভাবে সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ, ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ সহ হত্যার চেষ্টার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় দায়েরকৃত ৮(১২)২৪ নং মামলার এজাহারভুক্ত ৮৪ নম্বর আসামী সে। মামলা দায়েরের ৭ দিন পরও আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে শঙ্কা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, এই মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বহু ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সে নারী নির্যাতন, সাংবাদিক ও আইনবিদ হত্যার চেষ্টা সহ একাধিক মামলার চার্জভুক্ত আসামী। এসব মামলায় ইতোপূর্বে সে জেল খেটে এসেছে।
আসামী হাসানের প্রতিবেশী বিএনপি নেতা এটিএম শাহজাহান জানান, বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে আসামী আবুল হাসানের অত্যাচারে ৪-৫ মাস তিনি নিজ বাড়িতে থাকতে পারেননি। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আবুল হাসান বার বার তার বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সে প্রকাশ্যে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো। মামলার আসামী হয়েও এখনো সে বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং প্রচার করছে পুলিশ তাকে ধরবে না। বিষয়টি রহস্যজনক।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা লিটন আল সাগর জানান, আবুল হাসান একজন দালাল ও প্রতারক। সে উচ্চ বেতনে ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে বহু টাকা আত্মসাৎ করেছে। সে একজন সুযোগ সন্ধানী ও সুবিধাবাদী লোক। তার কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সে সেই দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করে বেড়ায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, সন্ত্রাসী আবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিলো। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জে হলেও ময়মনসিংহ সদরের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাথে সখ্যতা ও উঠাবসা রয়েছে বলে সে এলাকায় প্রচার করতো। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর সে এখন মুখোশ পাল্টে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এজাহারভুক্ত আসামী হওয়া স্বত্বেও সে এখনো এলাকায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে দেখে তারা অবাক ও শঙ্কিত। জনমনে প্রশ্ন, আবুল হাসানের এত আত্মবিশ্বাসের উৎস কোথায়? কিসের শক্তিতে সে এখনো বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়? আসামী হাসানকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান তারা।
এই ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসির সাথে কথা বলে আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হবে।