রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী সার্কেল-২ এর রাজস্ব কর্মকর্তা মানিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে প্রকাশ- পল্লবী সার্কেল-২ এর রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) মানিউর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহারকারী একজন কর্মকর্তা। দির্ঘদিন ভ্যাট অফিসে চাকরী করার সুবাদে তিনি অবৈধ টাকার পাহাড় করে নামে-বেনামে অনেক সম্পদ গড়ে তুলেছেন। মানিউর রহমানের স্ত্রী এবং আত্মীয়-স্বজনদের নামে তিনি এই ঘুষের টাকায় সম্পদ গড়ে তুলেছেন। দেশের কয়েকটি বেসরকারী ব্যাংকে তার একাউন্ট রয়েছে। প্রতিনিয়ত তার অনুসারী রাজস্ব অফিসের সিপাহীদের মাধ্যমে তিনি টাকা জমা করে রাখেন। এরমধ্যে সিপাহী তমিজ উদ্দিনের মাধ্যমে সে ব্যাংকে ঘুষের অর্থ রাখেন এবং অন্যত্র এসব টাকা পাচার করে থাকেন। এছাড়াও শাহীন ড্রাইভারের মাধ্যমে মানিউর রহমান আমদানীকারবকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার খাম ও বান্ডিল বান্ডিল টাকা নিয়ে থাকেন। স্কুল মাষ্টার মানিউর রহমান কাষ্টমসে যোগ দেয়ার পর তার ভাগ্য পাল্টে যায়। এরপর থেকে আজ অবধি তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তার ব্যবহারের জন্য একটি এলিয়ন গাড়ি রয়েছে এবং ২৫ হাজার টাকা বেতনের একজন ড্রাইভার রয়েছে। বিলাসবহুল জীবন-যাপন করা মানিউর রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানদের এত টাকার উৎস কোথায়। কিভাবে তারা জীবন-যাপন করে এবং কোন স্কুলে পড়ে তা অনুসন্ধানের বিষয়। এছাড়াও শুধু ঘুষের অর্থ আদায় করতে মানিউর রহমান একজন রাজস্ব কর্মকর্তা রেশমা আক্তার ঝুমাকে সড়িয়ে অতিরিক্ত শাহআলী সার্কেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। মানিউর রহমানের অধস্তন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জামিলুর রহমান, মোঃ আলমগীর হোসেনসহ অন্যান্যদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তিনি ঘুষের টাকা গ্রহণ করেন। আর তিনি নিজে বড় বড় আমদানীকারকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করেন। এসব ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য এখন প্রকাশ্যে চলে। যা অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে। সেবা গ্রহীতাদের স্থান পরিবর্তন বাবদ টাকা না লাগলেও তিনি মোটা অংকের টাকা গ্রহন করেন। মানিউর রহমানের কাছে তার সার্কেলের আমদানীকারকদের একটি তালিকা রয়েছে। এসব আমদানীকারকদের তিনি নিজে যোগাযোগের মাধ্যমে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করেন। মানিউর রহমানের ঘুষ বাণিজ্যের জন্য প্রতিনিয়ত সরকার প্রকৃত রাজস্ব হারাচ্ছে। আর লাভবান হচ্ছেন মানিউর রহমান। অনুসন্ধান করলে তার আরো দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে। এমনকি টাঙ্গাইলে তিনি বিলাস বহুল একটি বাড়ি নির্মান করেছেন।
মিরপুর রাজস্ব সার্কেলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, আমরা এসসব দূর্নীতির খবর জানলেও তা প্রকাশ করতে পারছি না। রাজস্ব কর্মকর্তা মানিউর রহমান বাইরের লোক এনে অফিসে কাজ করিয়ে থাকেন। তেমনি সাকিব নামে এক লোককে দিয়ে তিনি ভ্যাট অনলাইন ও সিপিসির কাজ করিয়ে থাকেন। তিনি অনেক সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রাত অবধি অফিস করেন। তখন অধস্থন কর্মচারীদের অফিসে থাকতে বাধ্য করেন তিনি।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারীর মোবাইল ফোনে কল করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে, মিরপুরের কাজিপাড়ায় মুন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের কেউ দূর্নীতি দমনে অভিযোগ করেননি বলে জানান।
মিরপুর রাজস্ব সার্কেলের কর্মকর্তা মানিউর রহমান এব্যাপারে বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উদ্দেশ্যমূলক। তবে, তিনি এ বিষয়টি যাতে বেশী দূর না গড়ায় তার জন্য এ প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন।