এবারের ঈদ যাত্রায় অগ্রীম টিকিট না করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের পোশাক শ্রমিকরা। একদিকে ট্রাফিক জ্যাম ও পরিবহনের ধীরগতি অন্যদিকে কাঙ্খিত যানবাহনের অভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কেটে যাচ্ছে মহাসড়কেদেখা গেছে, ঢাকার সাভার, নবীনগর, বাইপাইল, ধামরাইসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ গামী সাধারণ যাত্রীরা পরিবহনের জন্য ভীর করে দাঁড়িয়ে আছেন। ঘন্টার পর ঘন্টা সময় চলে গেলেও মিলছে না পরিবহন। অনেকে ঈদে বাড়ি যেতে বাধ্য হয়ে গরুবাহী ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে চুক্তিতে উঠে যাচ্ছেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী ছুটি হওয়ায় অগ্রীম টিকিট না করায় বিপাকে পরেছেন পোশাক শ্রমিকরা।
রংপুরগামী পোশাক শ্রমিক রহিমা খাতুন বলেন, সাভার বাসস্ট্যান্ডে প্রায় ২ ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছি। ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য কোন গাড়ি পাচ্ছি না। ট্রাক বা পিকআপ ভ্যান চুক্তি করতে গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে অপেক্ষা করছি।
ধামরাই বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা খুলনার যাত্রী আব্দুল হক বলেন, আমরা পোশাক শ্রমিকরা এবার বিপদে পড়েছি। কারণ, গার্মেন্টস কখন ছুটি দেবে তা অনিশ্চিত ছিল। যে কারণে অগ্রিম টিকিট কাটতে পারিনি। তাই কোন পরিবহনে আমাদের জায়গা হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছি।
তাদের মত কয়েক হাজার যাত্রী শুক্রবার সকাল থেকে মহাসড়কে অপেক্ষায় আছেন কাঙ্খিত যানবাহনের আশায়। হোক সেটা গরুবাহী ট্রাক। তবুও বাড়ি যেতে হেেব ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণ করতে। স্বজনদের সাথে কয়েকটি দিন কাটানোর প্রবল ইচ্ছা শক্তি এ কষ্টটুকুকে যেন ¤øান করে দিয়েছে।
সাভার বাসস্ট্যাান্ডে পরিবহন কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা রাসেদুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন পরিবহনের সিট বুকিং করে টিকিট দিয়ে থাকি। এবার ঈদে আগে থেকেই সকল পরিবহনের সিট বুকিং হয়ে গেছে। তাই এখন চাইলেও কাউকে টিকিট দিতে পারছি না। অলস সময় কাটছে আমাদের।
পরিবহন সংকটের পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানজটের। যে কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বাস চালকরাও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন এ কারণে।
অনেক বাস চালক জানিয়েছেন, মহাসড়কে যানজট না থাকলে সময়মত যাত্রী নামিয়ে দিয়ে আবারো যাত্রী বোঝাই করে গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব ছিল। এতে করে পরিবহন সংকট দূর হতো। অনেক যাত্রীদের মহাসড়কে বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না।
ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম বলেন, আইন না মানায় এবং মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করার কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট নিরসনে অতিরিক্ত ট্রাফিক কাজ করছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপÍ কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পুলিশ সার্বক্ষনিক দায়িত্বে রয়েছে। মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। #