বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উখিয়ায় এখনো জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান “হয় অর্থ, নয় রক্ত” উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি ক্যারিয়ারের এমন স্বীকৃতি কেইনকেই মানায় মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত লড়াইয়ে পরিণত করার কৌশল হতে পারে বুমেরাং কোচদের সেরা দে লা ফুয়েন্তে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা সানায়ে তাকাইচির

কিশোরীকে মদ খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : 10:14 am, মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২

কিশোরীকে মদ খাইয়ে অচেতন করে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করতেন তিনি। রক্ষিতা হিসেবে কিশোরীকে দিনের পর দিন একটি বাসায় রেখে এ কাজটি করেছেন ঢাকার সাভার উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম। ওই কিশোরীকে বিদেশ পাচারেরও চেষ্টা করা হয়েছে একাধিকবার।

সাইফুলের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দিতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন ওই কিশোরী। এমতাবস্থায় অবশেষে আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। ঘটনাটি চেয়ারম্যান সাইফুল ধামাচাপা দিয়ে রাখলেও অবশেষে হাটে হাড়ি ভেঙ্গেছে লোকজন। সিআইডি মামলার তদন্তে এলে অবশেষে সকলের সামনে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়। মামলার কপি ফটোকপি করে বিতরণ করছেন স্থানীয়রা।

গত ১১ মে মামলা নং ১১/২০২২, ধারা: মানবপাচার আইনের ৭/৮/১০/১১/১৪ দায়ের করা হয়। চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ছাড়াও এ মামলায় আরও ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন, ঢাকা মহানগর মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জামাল উদ্দিন মীর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন ৮২/২ ইউনুস সুপার মার্কেটের নিউ পপুলার আবাসিক হোলেটের ভাড়াটিয়া মালিক, শহীদ ফারুক রোড এলাকার মোঃ জাভেল হোসেন পাপন (৪১) রাজধানীর উত্তর মানিকনগর এলাকার মোঃ মোখলেছ (৩৫) নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার কাবিলগঞ্জ গ্রামের মৃত-তোফাজ্জল মিয়ার ছেলে মোঃ আনিসুল বাসার রতন (৩২) বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ থানার সিন্নিরচর গ্রামের দলিল উদ্দিনের ছেলে মোঃ জসিম (৫০) রাজধানী যাত্রাবাড়ীর ৮২/এ, শহীদ ফারুক রোড এলাকার মোঃ কবির হোসেন ওরফে মিরাজ (৪৫) রাজধানীর ৪৬/বি/-১ উত্তর মানিকনগর এলাকার ভাড়াটিয়া মোঃ আলাউদ্দিন (৩০) এবং মোসাঃ আনোয়ারা বেগম আঙ্গুরী (৫০) ।

আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

পিটিশন মামলায় বাদির দাবি, ঘটনার পর তিনি পালিয়ে মুগদা থানায় গিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করলেও থানার অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন মীর মামলা না নিয়ে তাকে হয়রানি করেন। থানার এসআই এনামুল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলেও মামলা রেকর্ড না করায় ওই জোনের সহকারি কমিশনারের (এসি) কাছে গিয়েও প্রতিকার মিলেনি।

ভুক্তভোগী জানায়, চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সাথে আঙ্গুরির ভালো সম্পর্ক ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাকে মোখলেস ও চেয়ারম্যান সাইফুল বিভিন্ন সময় মদ খাইয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। সাইফুল, মোখলেস পাপনে মদ খাইয়ে অজ্ঞান করে যা মন চায় তাই করেছে। কিশোরীর উপর চরম নির্যাতন করা হয়েছে। রাজধানীর মুগদা থানার মানিকনগর, কুমিল্লাপট্টি গলিতে এ ঘটনা ঘটে।

কিশোরী আরো জানায়, প্রায় দুই মাস আগে থেকে এমন ঘটনা ঘটিয়ে আসছে তারা। এসব ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে আমি প্রতিবাদ করি। সাইফুল চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দেয়। তারপরেও গোপনে আমি মামলার কাগজ লিখে মুগদা থানায় যাই। ওসি এ ব্যাপারে কোন গুরুত্ব দেয়নি। আমাকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাত ১২টার দিকে আমাকে ওসিসিতে ভর্তি করেন। যারা আমার উপর জুলুম-নির্যাতন করেছে তাদের এত সহজে ছেড়ে দেবো না।

ভুক্তভোগী কিশোরী আরো জানায়, আমার বয়স যখন ১০/১১ বছর, তখন বরিশাল থেকে ঢাকায় মামার বাসায় বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওনা হই। কিন্তু এক লঞ্চে উঠতে গিয়ে আরেক লঞ্চে উঠে পড়ি। নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় আমি লঞ্চ হারিয়ে ফেলি। সেখান থেকে মোখলেস আমাকে এনে টাকার লোভে আঙ্গুরির কাছে বিক্রি করে দেয়। এর পর থেকে আমার সাথে আঙ্গুরির পরিচয়। যখন আমার বয়স ১২, তখন আঙ্গুরি আমার ওপর নির্যাতন শুরু করে। ঘরের মধ্যে আমাকে তালা দিয়ে বন্দী করে রাখত। ঠিকমতো খাবার ও পোশাক দেয়নি।

বাদীর আইনজীবি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন হাওলাদার জানান, মানবপাচার ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত। মামলা আমলে না নেওয়ায় থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে জোনের এসি ও থানার এসআইকে।

সিআইডি জানায়, আদালতের নির্দেশ পেয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাদীর বক্তব্য নিয়েছেন। আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

অভিযুক্ত সাভারের বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। #

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com