
সিএনআই নিউজ :
যোগব্যায়ামের সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যোগাযোগ খুব ঘনিষ্ঠ। একজন কীভাবে হাঁটছেন, তাঁর দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গি ও চাহনি নির্ধারণ করে মানুষটা নিজেকে নিয়ে কীভাবে ভাবছেন। মনে করুন, ভাইভা বোর্ডে ঢোকার আগে একজন ভয় পাচ্ছেন। তাঁর শারীরিক ভঙ্গির কথা চিন্তা করুন। আপনার মনে কেমন চিত্র ভেসে উঠছে? যার চোখের দৃষ্টি নামানো। কিংবা রেগে যাওয়া মানুষের কথা ভাবুন। যাঁর হাত থাকে মুষ্টিবদ্ধ, শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে থাকা, কোঁচকানো চোখ। আবার একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষের কথা ভাবুন। সবার মনেই একধরনের শারীরিক ভঙ্গির কথা মনে পড়ে যাবে। দৃঢ়ভঙ্গি, চোখের দৃষ্টি সহজ ও স্বচ্ছ, হাসিমুখ। খুব রেগে আছেন। দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনুন। দেখবেন আপনার চিন্তার বা আবেগের পরিবর্তন হয়ে যাবে।
আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো মেডিটেশন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা। আবেগের সঙ্গে সঙ্গে নিশ্বাসের দ্রুত ওঠা-নামা হয়। আর মেডিটেশন, যা আপনাকে রিলাক্সভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে। অধিকাংশ সময় অতীত আমাদের ভাবায় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় পাই। মেডিটেশন আমাদের সাহায্য করে বর্তমানের দিকে মনোযোগ নিয়ে আসতে। যোগব্যায়াম হচ্ছে শারীরিক ভঙ্গি, নিশ্বাস ও মেডিটেশনের সমন্বয়, যার মাধ্যমে আপনার নিজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করবে।
মানসিক স্বাস্থ্যে এর ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে অনেক। যাঁরা অনেক দিন ধরে যোগব্যায়াম করছেন, দেখা যায় তাঁদের উদ্বেগ এবং হতাশা বোধ কম। ফুরফুরে থাকতে ও আপনাকে লক্ষ্যের দিকে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
গত ২১ জুন পালিত হলো আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পালিত হয়েছে অনুষ্ঠান। এতে হাজার পাঁচেক মানুষ অংশ নেন। আমিও নিয়েছিলাম। এটি ব্যাপক সমাদৃত হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে বলা যায়, মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে এর প্রয়োজনীয়তা। গবেষণায় উঠে এসেছে এর বিভিন্ন দিক। যেমন:
*সব ধরনের ব্যায়াম উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। তবে এর মধ্যে যোগব্যায়ামকে সর্বোচ্চ মাধ্যম ধরা হয়। নিশ্বাস ও দ্রুত হৃৎস্পন্দনকে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। এমনকি রক্তচাপ কমায়।
*আরও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যোগের ২০টি সেশন আপনাকে মন খারাপভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।
*যারা যোগব্যায়াম করে থাকেন তাঁরা প্রাণশক্তিতে ভরপুর এবং ইতিবাচক মনের অধিকারী হন।
*এটি মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও এর ভূমিকা অপরিসীম।
*ক্সকিছু সাইকোটিক ডিসঅর্ডারের লক্ষণ কমাতেও যেমন সিজোফ্রেনিয়া অথবা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রেও সাহায্য করে।
*যোগব্যায়াম আপনার মানসিক প্রশান্তি আনতে সাহায্য করে। তাই শারীরিক ও মানসিক দুইভাবেই ভালো থাকার জন্য শুরু করতে পারেন।
সাব্বির /সিএনআই নিউজ / ১০০