
কক্সবাজারের উখিয়ায় গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসে লাগা আগুন ১৫ ঘণ্টা পেরিয়েও নেভানো যায়নি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলের দিকে আগুনের শিখা আরো বেড়ে গেলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রাতে আগুনের দৃশ্য দেখতে ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট ব্রিজ এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ঘটনাস্থলের চারপাশে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট ব্রিজসংলগ্ন মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় নলকূপ খননের স্থান থেকে আগুন বেরিয়ে আসে।
খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। পরে কক্সবাজার শহর থেকেও একটি ইউনিট সেখানে যোগ দেয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।
আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সন্ধ্যার পরও আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। ভূগর্ভে গ্যাসের উপস্থিতি ও এর প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) অবহিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, নলকূপ খননের সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি বাপেক্সকে জানানো হয়েছে। ঢাকা থেকে সংস্থাটির দুই সদস্যের একটি দল সন্ধ্যার পর বিমানে কক্সবাজারে পৌঁছেছে। রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কাজ শুরু করার কথা।
এদিকে গ্যাসের আগুন বিদ্যুতের তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তা জানান, ৩৩ কেভি লাইনের মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। আগুনের কাছাকাছি এলাকায় একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বেরিয়ে এসে আগুনের সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ওই এলাকায় কোনো গ্যাসের পাইপলাইন নেই। ঘটনাস্থল থেকে কক্সবাজার শহরের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার।
স্থানীয় জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামশুল আলম জানান, ঢাকার এক ব্যক্তি মোস্তফা সিকদারের বাড়ির কিছু জমি কিনেছেন। সেখানে ১০ থেকে ১৫ দিন আগে একটি গভীর নলকূপ খনন করা হয়। প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করেও পানি পাওয়া যায়নি। পরে সোমবার পাশের আরেকটি স্থানে নতুন করে খননকাজ শুরু করেন শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেখান থেকেই আগুন বেরিয়ে আসে।
শামশুল আলমের ভাষ্য, প্রথমে স্থানীয় লোকজন বালু ও পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে কাজ শুরু করেন। তবে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুনের শিখা বাড়তে থাকায় আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যদিও ঘটনাস্থলের কাছে বসতবাড়ি কিংবা আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।