বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‌‘ছট মাইয়া’ সিনেমায় গানের দৃশ্য দেখে পুরোহিত খুব খুশি, বললেন তামান্না শেখ হাসিনার নির্দেশে ইশতিয়াক ডিএমপিতে টর্চার সেল বানান ৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন আবুল খায়ের কানাডাকে সহযোগী সদস্য করার উদ্যোগে ইইউকে ট্রাম্পের বাণিজ্য বন্ধের হুমকি সুদানে খনি ধসে অন্তত ৬০ জনের প্রাণহানি স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ বালিয়াকান্দিতে শশুরের কথা না শোনায় ভুয়া ঠিকানায় মামলা দিয়ে জামাইয়ের পরিবারকে হয়রানীর অভিযোগ পাইকগাছায় চোরাই ফ্রিজ-খাটসহ দুইজন গ্রেফতার কাজীপুরে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ ফিরিয়ে আনতে ১৩ জলাশয়ে ২৮৫ কেজি পোনা অবমুক্ত

শেখ হাসিনার নির্দেশে ইশতিয়াক ডিএমপিতে টর্চার সেল বানান

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : 12:47 pm, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনায় ডিএমপির মধ্যে টর্চার সেল গঠন করে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন তৎকালীন এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ— এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন ওই আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের দায়ের করা অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি জানতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করে নিজের মামলার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন তিনি।

রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তাকে রাজধানীর ভাষানটেক থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তির একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে প্রথমে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় এবং পরে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পরপরই এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ তার ওপর নৃশংস নির্যাতন চালান।

তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ভেতরে আমার হাত, চোখ ও মুখ গামছা দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়েছিল, যাতে কোনো আওয়াজ করতে না পারি। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে ১৫ দিনের রিমান্ডে রেখেও চরম অত্যাচার করা হয়েছে।

এডিসি ইশতিয়াকের কার্যালয়কেই নির্যাতন কেন্দ্র বানানো হয়েছিল উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, শুধু আমি নই, যুবদল নেতাসহ অসংখ্য মানুষকে তার কার্যালয়ে সবার উপস্থিতিতে নির্যাতন করা হতো। শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনা ছাড়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে এমন টর্চার সেল চালানো সম্ভব ছিল না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ড্রোন দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ধারণ করার পর হত্যার প্রমাণ নষ্ট করতে তা ডিলিট করে দেন।

এছাড়া বিতর্কিত বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের পুত্র হিসেবে এই কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধী মত ও আন্দোলনকারীদের দমন করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে যে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়েছিল, সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই তিনি এই নির্যাতনের ন্যায়বিচার চান। ট্রাইব্যুনাল থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং দ্রুতই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।  এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এডিসি ইশতিয়াক আহমেদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ভিন্ন মত দমন ও আন্দোলনকারীদের ওপর একই কায়দায় চালানো এসব নির্যাতন ‘ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক’ অপরাধের অংশ, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত। রাশেদ খানের দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com