শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পেলে-ম্যারাডোনা-এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে শীর্ষে মেসি ম্যারাডোনাকে জয় উৎস্বর্গ করলেন মেসি ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে নাইকিকে ছাপিয়ে ব্র্যান্ডিংয়ে বড় জয় এডিডাসের আলজেরিয়ায় এতিমখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১১ জনের মৃত্যু, আহত ১৯ বামপন্থী সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোগ চায় যুক্তরাষ্ট্র চট্টগ্রামে শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে সরকার : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে শুরু কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম, বাড়ি বাড়ি যাবেন কৃষি কর্মকর্তারা সুন্দরগঞ্জে জুলাই শহিদ দিবস পালিত

ম্যারাডোনাকে জয় উৎস্বর্গ করলেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : 5:59 pm, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়টি প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।

ক্যারিয়ারজুড়ে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে নিয়মিত তুলনা করা হয়েছে ৩৯ বছর বয়সী মেসির। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুই গোলেই অ্যাসিস্ট করা মেসি ম্যাচ শেষে বলেন, “দিয়েগো সত্যিই অসাধারণ ছিলেন। আমি কখনোই তাঁর সঙ্গে নিজের তুলনা করতে চাইনি। আমার কাছে তিনিই সর্বকালের সেরা।

২০১০ সালের বিশ্বকাপে আমরা একসঙ্গে দারুণ কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছি। তখন তিনি কোচ ছিলেন। সেই টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষ ও ম্যাচগুলো নিয়ে আমরা অনেক কথা বলতাম।

আজ তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, নিশ্চয়ই খুব খুশি হবেন এবং এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করবেন। কারণ জাতীয় দল তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা আমরা সবাই জানি। এই জয় তাঁর জন্য একটি উপহার।”
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা প্রথম গোলটি হাত দিয়ে করেছিলেন, যা পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে যায়। এরপর তিনি একক নৈপুণ্যে আরেকটি অবিশ্বাস্য গোল করেন, যা পরে ফিফার ভোটে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে নির্বাচিত হয়।

আর্জেন্টিনা সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায় এবং পরে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে।

মেসি স্বীকার করেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বুধবারের ম্যাচটি তাঁর এবং পুরো আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছিল, কারণ এই দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বীতাটা বেশ পুরনো।

তিনি বলেন, “যদিও এটি শুধু একটি ম্যাচ ছিল, আমরা বিশেষ কিছু অনুভব করেছি। জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর মুহূর্ত থেকেই সেটা টের পাচ্ছিলাম। সমর্থকেরা অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে এই জয়টাই বেশি চেয়েছিল। কারণ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার গুরুত্ব অনেক বেশি।
আমি জানি, আর্জেন্টিনার মানুষ কতটা আনন্দিত। আমার মা এবং পরিবারের সদস্যরা আমাকে সেই উদ্যাপনের ছবি পাঠিয়েছেন।

আর্জেন্টিনার মানুষকে এই বিশেষ আনন্দ দিতে পেরে আমি ভীষণ গর্বিত ও সুখী। কোনও আর্জেন্টাইনই এই ম্যাচ হারতে চাইনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সেমিফাইনাল যে গুরুত্ব বহন করছিল, সেই কারণে পুরো বিশ্বকাপের যাত্রাটাই ছিল অসাধারণ। আজ কেউই হারতে চায়নি।”

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের শিরোপা-খরা ঘুচিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি, যিনি সেবার টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন। এবারও পুরো আসরে তিনি দুর্দান্ত খেলছেন।
ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন। তাঁর গোলসংখ্যা এখন ২১। পাশাপাশি ১৩টি এ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ এ্যাসিস্টদাতাও তিনি।

মেসি বলেন, “গত এক বছর ধরে আমি নিজেকে প্রস্তুত করেছি এবং কঠোর অনুশীলন করেছি। জানতাম, সেরা শারীরিক অবস্থায় থাকতে আমাকে সর্বোচ্চটা দিতে হবে।

এখন আমি শুধু খেলাটা উপভোগ করতে চাই। এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। এই দল সবসময় নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেয় এবং কারও কাছে তাদের কোনো দেনা নেই।

এই দল কখনো চেষ্টা থামায় না। আমরা আমাদের ফুটবল এবং দৃঢ় সংকল্প দিয়ে জিততে নেমেছিলাম, আর এখন আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে। আমরা ইংল্যান্ডকে তাদের নিজেদের অর্ধেই চেপে রেখেছিলাম এবং দেখিয়েছি অতিরিক্ত সময়ে না গিয়েও নির্ধারিত সময়ে জেতার সামর্থ্য আমাদের আছে। পিছিয়ে পড়েও আমরা যে শান্ত ও মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে পেরেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। সত্যি বলতে, আমরা ম্যাচটা ভীষণ উপভোগ করেছি।”

রোববারের ফাইনালে মেসির প্রতিপক্ষ হবে পরিচিত মুখে ভরা স্পেন দল। স্পেনের বর্তমান স্কোয়াডে রয়েছে বার্সেলোনার আটজন খেলোয়াড়। বার্সেলোনাই ছিল মেসির দীর্ঘদিনের ক্লাব।

ইউরো ২০২৪ চ্যাম্পিয়ন স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। স্পেনের প্রশংসা করে মেসি বলেন, “ওরা অসাধারণ একটি দল। দলে রয়েছে অনেক দুর্দান্ত খেলোয়াড়। তারা দারুণ ফুটবল খেলে।

এই দলকে আমি খুব ভালো করেই চিনি। তাদের নিজস্ব ফুটবল দর্শন রয়েছে এবং তারা বহু বছর ধরেই একই ধরনের ফুটবল খেলে আসছে। খেলোয়াড়দের আমি চিনি, তাদের বিপক্ষে খেলেছি, তাদের খেলা অনুসরণ করি। তাদের মধ্যে কয়েকজন বার্সেলোনায় খেলে, যে ক্লাবটিকে আমি ভালোবাসি এবং এখনো অনুসরণ করি।

এটি একটি বিশেষ ম্যাচ- বিশ্বকাপের ফাইনাল। আমার ধারণা, এটি হবে সমানে সমানে লড়াই।’’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com