শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পেলে-ম্যারাডোনা-এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে শীর্ষে মেসি ম্যারাডোনাকে জয় উৎস্বর্গ করলেন মেসি ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে নাইকিকে ছাপিয়ে ব্র্যান্ডিংয়ে বড় জয় এডিডাসের আলজেরিয়ায় এতিমখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১১ জনের মৃত্যু, আহত ১৯ বামপন্থী সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোগ চায় যুক্তরাষ্ট্র চট্টগ্রামে শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে সরকার : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে শুরু কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম, বাড়ি বাড়ি যাবেন কৃষি কর্মকর্তারা সুন্দরগঞ্জে জুলাই শহিদ দিবস পালিত

পেলে-ম্যারাডোনা-এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে শীর্ষে মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : 6:00 pm, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

গতরাতে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ৫৫ মিনিটে এন্থনি গর্ডনের গোলে প্রথম লিড নেয় ইংল্যান্ড। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে ৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে টানা দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ এবং ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে লটারো মার্টিনেজ দলের হয়ে গোল দু’টি করেন। দুই গোলেই এ্যাসিস্ট ছিল আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে না পারলেও রেকর্ড বইয়ের পাতায় নাম লিখিয়েছেন মেসি। ব্রাজিলের পেলে, স্বদেশি দিয়াগো ম্যারাডোনার পাশাপাশি ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

২০২২ বিশ্বকাপ থেকে টানা ১১ ম্যাচে গোল বা এ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। গত ৬০ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপের গত ৬০ বছরের রেকর্ড বিবেচনায় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি ১০ এ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪টি করে এ্যাসিস্ট করেছেন পেলে ও ফ্রান্সের আঁতোয়ান গ্রিজমান।

বিশ্বকাপের চলতি আসরে এমাবাপ্পের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৮টি করে গোল করেছেন মেসি। চারটি করে এ্যাসিস্ট করে যৌথভাবে দুই নম্বরে আছেন দু’জনে। পাঁচটি এ্যাসিস্ট করে শীর্ষে আছেন ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে।

গত ৬০ বছরে চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একের বেশি এ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড় হলেন মেসি।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে ৩৩ ম্যাচে ৩৩ গোলে অবদান রেখেছেন মেসি। এরমধ্যে ২১ গোল ও ১২ এ্যাসিস্ট ছিল। ২৫ গোলে অবদান রেখে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন এমবাপ্পে।

শেষ ৬০ বছরে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৯৯বার গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন মেসি। আর একবার সুযোগ তৈরি করলেই সেঞ্চুরির অনন্য নজির গড়বেন মেসি। ৭১ বার সুযোগ তৈরি করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন ম্যারাডোনা।

চলতি বিশ্বকাপে ২৫ বার গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন মেসি। এক্ষেত্রে তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। বিশ্বকাপের ৬০ বছরের ইতিহাসে যেকোন আসরে সর্বোচ্চ ৩১টি করে গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন নেদারল্যান্ডসের ইয়োহান ক্রুইফ ও পর্তুগালের আন্তনিও সিমোয়েশ। ক্রুইফ ১৯৭৪ সালে এবং সিমোয়েশ ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ৩১টি করে গোলের সুযোগ তৈরি করেন। দ্বিতীয় স্থানে আছেন ম্যারাডোনা। ১৯৬৬ সালে ৩০বার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮.৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব কাভার করেছেন মেসি। এবারের আসরে অতিরিক্ত সময়ের গড়ায়নি এমন ম্যাচের মধ্যে এটাই তার সবচেয়ে বেশি দূরত্ব কভার করার ঘটনা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ বেশি বয়সী (৩৯ বছর ২১ দিন) খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেললেন মেসি। এক্ষেত্রে শীর্ষ দুইয়ে আছেন ইংল্যাান্ডের পিটার শিলটন (১৯৯০ সাল, ৪০ বছর ২৮৯ দিন) এবং ইতালির দিনো জফ (১৯৮২ সাল, ৪০ বছর ১৩০ দিন)।

ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার দ্বারপ্রান্তে মেসি।

বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এবারই প্রথম দুই মহাদেশের দুই শিরোপাধারী দল বিশ্বকাপের ফাইনালে লড়বে।

বিশ্বকাপের এক আসরে একাধিকবার দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ে ম্যাচজয়ী গোল করা প্রথম দল আর্জেন্টিনা।

১৯৯২ সালে ফিফা র‌্যাংকিং শুরুর পর প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হবে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ দুই দল। বিশ্বকাপ শুরুর আগে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে ছিল আর্জেন্টিনা এবং দ্বিতীয় স্থানে ছিল স্পেন।

ব্রাজিলের মত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সপ্তমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। সবচেয়ে বেশি ৮ বার ফাইনাল খেলেছে জার্মানি।

বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে দুই বা ততোধিক গোলের রেকর্ড এটি। এর আগে ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বিশ্বকাপ ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করেছিল উরুগুয়ে।

বিশ্বকাপে চারবার সেমিফাইনালে খেলে তিনবার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে ইংল্যান্ড। একবার সেমির বাঁধা টপকে ফাইনালে উঠেছিল তারা। সেটি ১৯৬৬ সালে। ঐ আসরের শিরোপাও ঘরে তুলেছিল ইংলিশরা।

ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১২১ আউটফিল্ড ম্যাচ খেলার নজির গড়লেন হ্যারি কেন। এক্ষেত্রে কেন টপকে গেছেন ওয়েন রুনিকে (১২০ ম্যাচ)। ইংলিশদের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১২৫ ম্যাচ খেলার রেকর্ডের মালিক সাবেক গোলরক্ষক পিটার শিলটন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com