
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুননাহারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্তকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারী শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীদের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে স্বপদে বহাল রেখেই তদন্ত পরিচালনা করায় নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুননাহারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্তের আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এটি নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বই বিতরণ শাখার উপপরিচালক তাপস কুমার অধিকারী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আগামী ১ জুলাই সকাল ১০টায় বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে তদন্তের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দৈনিক রাজবাড়ী কণ্ঠ-এ প্রকাশিত “বালিয়াকান্দিতে ঘুষ না পাওয়ায় স্লিপ ফান্ডের ৩০ লাখ টাকা ছাড় না করার অভিযোগ” শীর্ষক সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালিত হবে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, চিঠির অনুলিপির ৭ নম্বর ক্রমিকে “প্রতিনিধি/প্রতিবেদক, দৈনিক রাজবাড়ী কণ্ঠ, রাজবাড়ী”-এর নাম থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে এখনো কোনো সরকারি নোটিশ বা চিঠি পৌঁছায়নি। তার দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে তাকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হয়েছে।
এদিকে তাজমুননাহারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব প্রতিবেদনের পর তদন্ত কমিটি গঠন হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে ভয় ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্র পরিচালনার বিলসহ বিভিন্ন পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া পেনশন সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তিতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়েও অতীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেন, স্লিপ ফান্ডের অর্থ ছাড়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষের অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এখনও বহাল থাকায় তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।
প্রতিবেদক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেছি। সরকারি চিঠিতে অনুলিপি দেওয়ার কথা থাকলেও আমার কাছে কোনো নোটিশ পৌঁছায়নি। এতে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আরও কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্বে রেখেই তদন্ত করায় তারা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ তবিবুর রহমান বলেন, প্রতিনিধি কেন চিঠি পাইনি এটা আমার জানা নাই চিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন তিনি বাইপত্রে এটা পাঠানোর কথা রয়েছে। ভোট কেন্দ্র সংস্থার এর দ্বিতীয় ধাপের বরাদ্দের বিষয়ে বিল আটকে রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাজমুন নাহার জানেন বিষয়টি আমার জানা নাই যেহেতু এটা আর্থিক লেনদেনের বিষয় এর সম্পূর্ণ দায়ী তার এই বিষয়ে তার কাছ থেকে মতামত নেওয়াই ভাল হবে।
ভোট কেন্দ্র সংস্কারের দ্বিতীয় ধাপের বরাদ্দ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুননাহার যোগাযোগ করা হবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বই বিতরণ শাখার উপপরিচালক তাপস কুমার অধিকারী মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলো তিনি ফোন রিসিভ করেননি।