সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

অল্পতেই ধৈর্য হারালে দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন: ডা. শফিকুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : 12:15 pm, রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, অল্পতেই ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন?

তিনি বলেন, সরকার ৫১ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে ক্ষমতায় থাকার দাবি করলেও দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মতামতকে উপেক্ষা করছে। যে সরকার জনগণ মানে না, সেই সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না।

শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সমাবেশ আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।

ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সরাসরি ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন, বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপানজাত পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর প্রতিবাদে মিছিল করেছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া। বিরোধী দলের কেউ এমন কর্মসূচি পালন করেনি। প্রধানমন্ত্রী একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তার মুখ থেকে বারবার ভুল তথ্য বের হওয়া দেশের জন্য ক্ষতিকর। যারা তাকে ভুল তথ্য দিচ্ছেন এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে- এমন আশা মানুষ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই সরকার অস্বস্তিবোধ করে। দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা বা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।

জামায়াত আমির সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন না করলে অতীতের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। যারা দেশের জন্য ফাঁসিকেও তুচ্ছ মনে করে, তারা সব সময় প্রস্তুত। তালা যেমন পরিবর্তন হয়, চাবিও পরিবর্তন হয়, এটা মাথায় রাখতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জনগণের জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সরকার বাজেটে সাধারণ মানুষের আশা- আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অথচ বাজেটে এসব সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, যদি বাংলাদেশে স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়, তাহলে গোটা উপমহাদেশে মুসলিম গণজাগরণ হবে। ভারত ভেঙে খানখান হবে। জনগণের আকাক্সক্ষা ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীরবিক্রম) বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং জননিরাপত্তার সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর নেতৃত্ব দিতে হবে। এছাড়া তিনি আন্দরকিলা শাহী জামে মসজিদ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

এছাড়াও সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com