বৈশাখের তপ্ত দুপুরে যখন প্রকৃতি এক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যায়, ঠিক তখনই সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের প্রকৃতি তার আপন রঙে সেজে ওঠে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায়। গ্রীষ্মের রুক্ষতা ছাপিয়ে, কৃষ্ণচূড়া নিজেকে মেলে ধরে এক ভিন্ন মহিমায়, যা গ্রাম বাংলার নিস্তব্ধতাকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলে।
কাজিপুর উপজেলায় স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে রাস্তার দু’ধার পর্যন্ত, কৃষ্ণচূড়ার গাছগুলো যেন তাদের লাল রঙে প্রকৃতিকে এক শিল্পের দ্যোতনা এনে দিয়েছে। সবুজ চিরল পাতার মাঝে যেন আগুন জ্বলছে। আর এই আগুনই গ্রীষ্মের ঘামঝরা দুপুরে পথচারীদের মনে এনে দিচ্ছে অনাবিল প্রশান্তি। পথের মানুষরা থমকে দাঁড়িয়ে অবাক বিস্ময়ে উপভোগ করছেন এই নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। শুধু পথচারীই নয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গ্রামীণ জনপদের মানুষজনও এই কৃষ্ণচূড়া গাছের নান্দনিকতায় মুগ্ধ।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম জানান, কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ সাধারণত ১২ থেকে ১৫ মিটার উঁচু হয় এবং এর শাখা-পল্লব বেশ প্রশস্ত। বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত এই ফুলগুলো মুকুল ধরার কিছু দিনের মধ্যেই পুরো গাছকে ফুলে ফুলে ভরিয়ে তোলে। গাঢ় লাল রঙের ৭ থেকে ৮টি পাপড়িযুক্ত এই ফুলগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটার লম্বা হতে পারে। এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ণনায় “গন্ধে উদাস হওয়ার মতো উড়ে তোমার উত্তরী কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরি” এখন নড়বড়ে অস্তিত্ব নিয়ে টিকে আছে, তবুও এই গাছের কদর ক্রমেই বাড়ছে।
ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শোভাবর্ধনে কৃষ্ণচূড়া গাছের জুড়ি নেই। তিনি প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রতি এই সৌন্দর্য এবং পরিবেশের স্বার্থে বেশি করে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এই শোভা বর্ধনকারী বৃক্ষ শুধু গ্রামীণ জনপদেই নয়, শহরের মানুষের কাছেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই গাছের কাছে ছুটে আসছেন ছবি তুলতে এবং অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে।