বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

আগামী মাসে কারামুক্তি পাচ্ছেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : 6:45 pm, বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

থাইল্যান্ডের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে আগামী মাসে আগাম মুক্তি দেওয়া হবে বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ।

৭৬ বছর বয়সী থাকসিন গত সেপ্টেম্বর থেকে দুর্নীতির দায়ে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

কারা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, আগামী ১১ মে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে প্রবেশন মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইস পরাসহ সব শর্ত মেনে চলতে হবে।

ব্যাংকক থেকে এএফপি জানায়, বিবৃতিতে বলা হয়, বয়স এবং সাজা ভোগের মেয়াদ এক বছরের কম বাকি থাকায় তাকে আগাম মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুই দশক ধরে থাকসিনের রাজনৈতিক পরিবার থাইল্যান্ডের সেনাসমর্থিত ও রাজতন্ত্রপন্থি অভিজাত গোষ্ঠীর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত। অভিজাতদের মতে, তাদের জনতাবাদী রাজনীতি দেশটির প্রচলিত সামাজিক কাঠামোর জন্য হুমকি।

থাকসিনের পেউ থাই পার্টি এবং এর আগের সংস্করণগুলো একবিংশ শতাব্দীতে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত। সিনাওয়াত্রা পরিবার থেকে চারজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং দলটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে।

তবে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পেউ থাই তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। এতে থাকসিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অবশ্য রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে পেউ থাইয়ের অংশগ্রহণ রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা এখনও উন্মুক্ত রেখেছে।

থাকসিনের ভাতিজা এবং পেউ থাইয়ের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ইয়োদচানান ওংসাওয়াত অনুতিনের মন্ত্রিসভায় উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

কমানো হয়েছিল সাজা

গত বছর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ২০২৩ সালের সাজা কারাকক্ষে না থেকে হাসপাতালের বিশেষ কক্ষে ভোগ করায় তা নিয়মবহির্ভূত হয়েছে। এরপরই ব্যাংককের একটি কারাগারে তাকে এক বছরের সাজা ভোগ করতে হয়।

থাকসিন ২০০১ এবং ২০০৫ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান।

২০২৩ সালের আগস্টে দেশে ফেরার পর দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে কারাগারে নেওয়ার পরিবর্তে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তাকে হাসপাতালে একটি ব্যক্তিগত কক্ষে রাখা হয়। পরে রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে তার সাজা কমিয়ে এক বছর করা হয় এবং বয়স্ক বন্দিদের জন্য আগাম মুক্তি কর্মসূচির আওতায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

তার দেশে ফেরা এবং হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় পেউ থাই নতুন সরকার গঠন করায় পর্দার আড়ালে সমঝোতা ও বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

গত সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, থাকসিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন না এবং হাসপাতালে কাটানো সময় সাজা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কারা বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার আগাম মুক্তির অনুমোদন পাওয়া ৮৫০ জনের বেশি বন্দির মধ্যে থাকসিনও রয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com