মধ্যপ্রাচ্য আজ ইতিহাসের অন্যতম এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। গাজা থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের লেলিহান শিখা এখন লেবানন ছাড়িয়ে ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত। এক সময়ের ‘ছায়াযুদ্ধ’ এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে, যা কেবল এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নয়, বরং বিশ্বশান্তি ও অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
গত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে অনেক উত্থান-পতন দেখা গেছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দিলেও কূটনৈতিক সমাধান এখনো সুদূর পরাহত। অন্যদিকে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘর্ষ এবং ইরান-ইসরায়েল সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলা এই অঞ্চলে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের’ (Full-scale regional war) আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বর্তমান এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। জাতিসংঘ কিংবা আন্তর্জাতিক আদালত থেকে বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অস্ত্র বিরতি বা আলোচনার টেবিলে বসার পরিবর্তে সামরিক শক্তির মহড়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
“শান্তি কেবল যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়, শান্তি হলো ন্যায়বিচারের উপস্থিতি।” মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে হলে কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়, বরং এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর একটি টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান আগুন নেভাতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কেবল বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। সংঘাতের পথ পরিহার করে কূটনীতি ও সংলাপই হতে পারে রক্তপাত বন্ধের একমাত্র উপায়। অন্যথায়, এই আগুনের আঁচ থেকে বিশ্বের কোনো প্রান্তই হয়তো সুরক্ষিত থাকবে না।