বর্তমানে বাংলাদেশে ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং উচ্চ তাপমাত্রার মতো উপসর্গ নিয়ে ঘরে ঘরে বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতেও রোগীর ভিড় বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই জ্বর মারাত্মক আকার ধারণ করে না এবং কয়েক দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠা যায়, তবু এর ব্যাপকতা দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে এবং কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই জ্বর কখনও কখনও জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
ভাইরাস জ্বর মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে নির্গত ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারে। এছাড়া, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র স্পর্শ করার পর নাক, মুখ বা চোখ স্পর্শ করলেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই এই সময়ে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ঘন ঘন হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার করা এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলা সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
চিকিৎসকদের মতে, ভাইরাস জ্বরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। এর চিকিৎসা মূলত লক্ষণভিত্তিক। অর্থাৎ, জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল, সর্দি-কাশির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। তবে যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ, প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই সামান্য জ্বর হলেও অ্যান্টিবায়োটিক সেবন শুরু করেন, যা একেবারেই অনুচিত। ভাইরাস জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই, বরং এর অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মতো মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। গণমাধ্যমে ভাইরাস জ্বর সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো উচিত। সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে কিভাবে সংক্রমণ এড়ানো যায় এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক শয্যা এবং চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একইসাথে, স্কুল-কলেজ এবং কর্মস্থলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিতে হবে।
আমরা সবাই মিলে সচেতন হলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ মোকাবিলা করা সম্ভব। সুস্থ থাকুন, সুরক্ষিত থাকুন।