বাঙালির প্রাণের উৎসব ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে লাখো মানুষ। কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক শহর ছেড়ে আপনজনের টানে এই যে জনস্রোত, তা কেবল একটি ভ্রমণ নয়; বরং এটি শিকড়ের টানে ফেরার এক আবেগঘন উৎসব। কিন্তু এই আনন্দঘন যাত্রাই অনেক সময় বিষাদে পরিণত হয় অব্যবস্থাপনা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং অসহনীয় ভোগান্তির কারণে।
প্রতি বছর ঈদ যাত্রায় আমাদের সামনে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়: যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ঝুঁকি। হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নানামুখী তৎপরতা সত্ত্বেও অনেক সময় দেখা যায়, অসাধু পরিবহন মালিকরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া বা চন্দ্রার মতো পয়েন্টগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এবারের ঈদ যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে আমাদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি:
সড়ক ও মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা: মহাসড়কের খানাখন্দ দ্রুত মেরামত এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধে কঠোর হতে হবে। বিশেষ করে আমিনবাজার বা সাভারের প্রবেশমুখগুলোতে যাতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি না হয়, সেদিকে ডিবি উত্তর ও ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
ভাড়ার লাগাম ধরা: সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া নেওয়ার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে, তা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। টার্মিনালগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি ও তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।
নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা: লক্কড়-ঝক্কড় বা ফিটনেসবিহীন বাস যেন মহাসড়কে উঠতে না পারে। পাশাপাশি ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করার প্রবণতা থেকেও যাত্রীদের সচেতন হতে হবে।
মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ: ভিড়ের সুযোগ নিয়ে মলম পার্টি বা অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য বাড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও অপরিচিতদের দেওয়া খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকতে হবে।
ঈদ মানেই আনন্দ। আর সেই আনন্দ পূর্ণতা পায় যখন প্রতিটি মানুষ নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে তার পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারে। সরকার, প্রশাসন এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা থাকলে একটি দুর্ঘটনা ও ভোগান্তিহীন ‘ঈদ যাত্রা’ উপহার দেওয়া সম্ভব। আমাদের প্রত্যাশা—সবার ঈদ ভ্রমণ হোক নিরাপদ ও স্বস্তির।