ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাধীন রাজিবপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মনিরুজ্জামান মানিক (৫০) দীর্ঘদিন যাবৎ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। বিগত ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২২ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হওয়ার কিছুদিন পর থেকে অনিয়মিতভাবে এলাকায় যাওয়া আসা করতেন তিনি। সর্বশেষ গত সংসদ নির্বাচনের সময় তাকে এলাকায় দেখা গেলেও হুট করেই আবারও উধাও হয়ে যান এই ইউপি সদস্য। তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটিও বন্ধ রয়েছে।
নিখোঁজ ইউপি মেম্বার মো. মনিরুজ্জামান মানিক রাজিবপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাতি গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। তার অনুপস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে আছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের প্রায় ৪ হাজার বাসিন্দা। বিভিন্ন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ইত্যাদি সুবিধাভোগীরা নিয়মিত ভাতা উত্তোলন করতে পারছেন না। ব্যাহত হচ্ছে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ।
জানা যায়, নির্বাচনের আগে মানিক চট্টগ্রাম বন্দরে অজ্ঞাত কাজ করতেন। এলাকার বাসীর দাবী, চট্টগ্রামে থাকাকালীন নিজেকে কাস্টমস অফিসার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা সহ বিভিন্ন অভিযোগে বেশ কয়েকবার তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছেন। এখনও তিনি কারাগারে থাকতে পারেন বলে তাদের ধারণা। নিখোঁজ মানিকের ০১৯১২****৫৬ নাম্বারটিতে কল দিয়ে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গিয়েছে।
রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আলী ফকির এই ইউপি মেম্বারের লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিখোঁজ মেম্বার দিনাজপুরের দিকে কোনো এক এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, সর্বশেষ গত রমজানের সময় তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ি থেকে একটি নাম্বার থেকে অন্য একজন মেম্বারের সাথে মানিক কথা বলেছিলেন। মেম্বার মানিকের অনুপস্থিতির কারণে গত ঈদে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারের মাধ্যমে তার ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের মাঝে তার ভাগের বরাদ্ধ বিতরণ করেছেন বলেও তিনি জানান। দীর্ঘদিন যাবৎ ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত সভায় অনুপস্থিত থাকায় সম্প্রতি তার স্থায়ী ঠিকানায় একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আলী ফকির। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।