পোশাক শ্রমিক রহিমা খাতুন। চাকরি করেন সাভারের একটি শিল্প কারখানায়। ছুটি বলতে বছরে দুই ঈদ। তাই শত কষ্ট হলেও অন্তত বছরে দুইবার রংপুর পীরগাছায় গ্রামের বাড়িতে পরিবারের কাছে যান।তেমনি এবারো ঈদের ছুটিতে বাড়ি যেতে চাইলেও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। যাত্রীর তুলনায় বাসের সংখ্যা নেই বললেই চলে। আশুলিয়ার বাইপাইলে দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাননি। কোনো উপায় না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে উঠে পড়েছেন ট্রাকে। তবে ঢাকা থেকে ফিরতি পথের কোরবানির পশুর খালি ট্রাকে উঠতে হয়েছে তাকে। দুর্গন্ধ-অপরিস্কার ট্রাকে ভোগান্তি নিয়ে নাক চেপে অস্বস্তির যাত্রা তাঁর। কেবল রহিমা খাতুন একা নন, তার শত শত ঘুরমুখী উপায় অন্ত পেয়ে গোবর মাখানো গশুবাহী ট্রাকে করে যাত্রা করছেন।
রহিমান খাতুন বলেন, সকাল এসেছি, দুপুর হয়ে গেছে। কোনো বাস নাই। এত যাত্রী কাছে যাওয়ার সুযোগ নাই। পরে বাধ্য হয়ে ময়লা ট্রাকের উঠছি। বাড়ি তো যাওয়া লাগবে। কি আর করা।
ঘুরে দেখা যায়, শত শত ঘরমুখী মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। দুই একটা বাস এলেও উপচে পড়ছে যাত্রীরা। তবে আগে থেকে প্রায় ভর্তি থাকে মানুষে। বাড়তি ভাড়া দিয়ে দুই-চারজনকে উঠালেও তাদের দাড়িয়ে যেতে হয়। তবে কোরবানির হাটে পশু নামিয়ে দিয়ে ফিরতি পথে প্রায় ট্রাকই যাত্রী নিয়ে যাচ্ছেন। তবে অধিকাংশ ট্রাকই ময়লা ও অপরিস্কার। ট্রাকে খেড়-খুটা ও গোবর মাখানো। দুর্গন্ধ অস্বস্তি নিয়ে কেউ বসে, কেউ দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করেছেন।
শুক্রবার (০৮ জুলাই) দুপুরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায় এমনই চিত্র।
দীর্ঘ অপেক্ষায় নেই পরিবহন। ফলে ক্লান্ত শরীরে আর অসহ্য গরমে গণপরিবহনের অভাবে বাধ্য হয়ে এই গাড়িই বেছে নিচ্ছেন তারা। বাইপাইল থেকে উত্তরবঙ্গমুখী সড়কে যাত্রীবাহী বাস থাকলেও তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে ঘরমুখো মানুষ বেছে নিচ্ছেন ফিরতি খালি গরুর ট্রাক। রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার বিভিন্ন হাটে গরু নামিয়ে ফিরতি পথে এভাবেই যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।
কথা হয় এমনই এক ট্রাকের যাত্রী জাহাঙ্গীর আলমের সাথে। তিনি বলেন, রাত থেকে দেখেছি এমন কোনো গরুর ট্রাক নেই যে খালি যাচ্ছে। সব ট্রাকেই কিছু না কিছু মানুষ আছেই। ট্রাকওয়ালাদের আবার তেমন কষ্ট নাই যাত্রীরাই খালি ট্রাক দেখলে দৌড়ে আসছে। যাত্রীরাই চালককে জিজ্ঞেস করছে গাড়ি কই যাবে। গন্তব্য মিলে গেলেই হল। লাফিয়ে লাফিয়ে যাত্রীরা উঠছেন ট্রাকে। রাতেও একবার বাসে উঠার চেষ্টা করেছিলাম। ৪০০ টাকার ভাড়া এখন ৮০০। পরে ফিরে গিয়েছিলাম বাসায়। আজ সকাল থেকে আবার চেষ্টা শুরু করি। বাধ্য হয়ে এই ট্রাকেই উঠছি।