ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কারণে সাভারের আবুল কালাম (৫০) নামে এক রোগী এখন মৃত্যুশয্যায়। এমনি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর ছেলে জাকারিয়া হোসেন (২৭)। অপরদিকে, ঔষধের কারণে রোগীর শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন কর্তব্যরত ডাক্তার আব্দুল বারি।
জানা গেছে, সাভারের রাজাশন পলুর মার্কেট এলাকার টেইলার্স ব্যবসায়ী আবুল কালাম গত ২৮ মে ব্রেইনস্ট্রোক করেন। এরপর তাকে সাভারের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে কালামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কালামকে গত ৩০ মে ভর্তি করা হয় রাজধানীর কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে। সেখানে ডা. আব্দুল বারির অধীনে টানা ভর্তি থেকে চিকিৎসার ১৪ দিন পর আবুল কালাম সুস্থ হয়ে যান। এরপর ডা. আব্দুল বারি গত ২৩ জুন আবুল কালামের ঔষধ পরিবর্তন করে দেন। পরিবর্তিত ঔষধ খাওয়ার পরই আবুল কালামের শরীর ও মুখে র্যাশ পরে যায়। ঘা হয়ে যায় ঠোঁট ও মুখের ভিতর। অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে কালামকে আবারও ভর্তি করা হয় ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে। সে এখন ওই হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
আবুল কালামের ছেলে জাকারিয়া জানান, ডা. আব্দুল বারি ঔষধ পরিবর্তন করার পর আমার বাবার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এরপর ডাক্তার ওই ঔষধ বন্ধ করে দেন। এখন ডা. বারি আমাদের কাছে ভুল স্বীকার করেছেন। কিন্তু আমার বাবাকে আমি বাঁচােেত চাই।
জাকারিয়া আরো বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করায় তাঁকে হুমকী দিচ্ছেন ডা. আব্দুল বারি ও তাঁর লোকজন।
ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোলজী বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল বারি বলেন, ঔষধ পরিবর্তন করার পর প্রতিক্রিয়ায় আবুল কালাম অসুস্থ হয়ে যান। তার ঔষধ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ ধরনের সমস্যা রোগীদের বেলায় খুব কম হয়। কালামের বেলায় এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। আমরা তার চিকিৎসা করাচ্ছি।
এ ব্যাপারে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে চাইলেও দির্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও কারো সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।