
শাহরিয়ার নাফীসের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় তারা ৩৮ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে ক্রিকেট কোচিং স্কুলকে (সিসিএস)। এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান করে ব্রাদার্স। জবাবে ৪৭.২ ওভারে ২১৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ক্রিকেট কোচিং স্কুল।
উভয় দলের এদিন ছিলো লিগের ষষ্ঠ ম্যাচ। ছয় খেলা শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সুপার লিগে খেলার আশাকে বাঁচিয়ে রাখলো তুষার ইমরানের ব্রাদার্স ইউনিয়ন। অপরদিকে সমান সংখ্যক ম্যাচে এখনো পয়েন্ট শূন্য অবস্থায় আছে ক্রিকেট কোচিং স্কুল (সিসিএস)। এরআগে শনিবার সকালে সিসিএসের অধিনায়ক রাজিন সালেহ টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠান।
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ১০৮ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন শাহরিয়ার নাফীস। তবে হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে শাওন গাজীর বলে আউট হন ইমরুল কায়েস। ব্রাদার্সের বাঁহাতি ওপেনার ফিরে গেলেও আরেক বাঁহাতি ওপেনার দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নেন। ৪৮.৪ ওভারে নাসুম আহমেদের বলে আউট হবার আগে ১৩৪ রান করেন শাহরিয়ার নাফীস। এ রান করতে ১৪৭ বল মোকাবেলা করেন তিনি। ১৪টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে তিনি তার এ ইনিংস সাজান।
তবে এ দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর শেষ দিকে জাকির হাসান ৩০ বলে ২৯ রান করলে আড়াইশতর কোঠা পার করে ব্রাদার্স। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে দলটি। সিসিএসের সালেহ আহমেদ শাওন ৪৫ রান খরচায় ৪টি উইকেট পান। এছাড়া নাসুম আহমেদ ও মেহরাব হোসেন ১টি করে উইকেট তুলে নেন।
২৫৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে সিসিএস শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায়। ২৫ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া সিসিএসের হাল ধরেন সাইফ হাসান ও সালমান হোসেন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এই দুইজন মিলে ১৩৯ রানের জুটি গড়েন। তারপরও এই জুটির রান যথেষ্ট ছিল না দলের জয়ের জন্য।
ব্যক্তিগত ৬৮ রানে সালমান আউট হলে আবারও ধস নামে সিসিএসের ব্যাটিং অর্ডারে। অধিনায়ক রাজিন সালেহ (২৬) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪৭.২ ওভারে ২১৫ রানে অলআউট হয়ে যায় সিসিএস। ব্রাদার্সের নাবিল সামাদ, আসিফ হাসান ও মিলিন্দ কুমার প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট পান। অনবদ্য ১৩৪ রানের জন্য শেষ পর্যন্ত ম্যাচসেরা পুরস্কারটি ওঠে ব্রাদার্সের শাহারিয়ার নাফীসের হাতে।