বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন

শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনই আনন্দময় জীবন, সাফল্যের জীবন, যেভাবে…

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : 4:09 pm, বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০১৬

একবার ঘুড়ি উড়ানোর সময় ছেলে বাবাকে জিজ্ঞেস করলো, বাবা ঘুড়িটা আকাশে ভেসে আছে কীভাবে? বাবা বললেন, লাটাইয়ের সাথে যে সুতা- এটাই ঘুড়িকে উড়তে সাহায্য করছে। ছেলে বললো, কিন্তু বাবা, সুতাটা তো ঘুড়িকে নিচে টেনে রেখেছে। একথা শুনে বাবা ঘুড়ির সুতাটা কেটে দিলেন এবং একটু পর ঘুড়িটা নীচে পড়ে গেল। বাবা তখন ছেলেকে বোঝালেন, আপাতদৃষ্টিতে যাকে মনে হয় আমাদের নিচে টেনে রেখেছে, সেটাই আসলে আমাদের ওপরে উঠতে দিচ্ছে।
আমাদের জীবনের অদৃশ্য লাটাই হলো শৃঙ্খলা। যে যত সুশৃঙ্খল তার মেধার বিকাশ তত বেশী। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কয়লা এবং হীরার অণুর মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। পার্থক্য হচ্ছে কয়লার অণুগুলো বিশৃঙ্খল এবং হীরার অণুগুলো সুশৃঙ্খল। শুধুমাত্র এই শৃঙ্খলার কারণে একই খনি থেকে তোলা হীরা আর কয়লার মূল্যে থাকে আকাশ পাতাল ফারাক।

শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনই আনন্দময় জীবন, সাফল্যের জীবন-
শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনই আসলে সত্যিকার আনন্দের, উপভোগ্য জীবন। কারণ শৃঙ্খলা যখন না থাকে, পরিকল্পনা যখন না থাকে তখন আনন্দ/ বিনোদনের অভিজ্ঞতাও পরিণামে নিয়ে আসে বিষণ্ণতা, একঘেয়েমি, বিরক্তি। পাশ্চাত্যে পেশা ও কর্মক্ষেত্রে এক জরিপে দেখা গেছে রবিবার ছুটি কাটানোর পর সোমবার সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে কর্মীদের Productivity সবচেয়ে কম থাকে। কাজে মনোযোগ, আগ্রহ এবং দ্রুততা কম থাকে। একেই Monday Hangover বলা হয়।

শৃঙ্খলা প্রাকৃতিক, বিশৃঙ্খলা কৃত্রিম- মহাবিশ্বের পরিমণ্ডলে দেখুন, সর্বত্র শৃঙ্খলা বিরাজমান। সৌরজগতের প্রতিটি গ্রহ, নক্ষত্র নিজ নিজ কক্ষ পথে চলছে। তাদের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ নেই, কোনো বিরোধ নেই। আমাদের শরীরের দিকে তাকালে দেখবো ফুসফুস, হার্ট একই ছন্দে ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। খাবারের এনার্জি অটোমেটিক্যালি রক্তের মাধ্যমে কোষে কোষে পৌঁছে যাচ্ছে। পাকস্থলী খাবার হজম করছে। এই কাজগুলোর মধ্যে কোনো বিরতি নেই, বিশৃঙ্খলা নেই, কোনো সিস্টেম লস নেই।

1455066416শৃঙ্খলা নষ্ট হয় কেন?

১. খেয়ালিপনা :
উদ্দেশ্যহীনতায় ভেসে বেড়ানো কিংবা যা খুশি তাই করার মধ্য দিয়ে আপনি দেবদাসে পরিণত হতে পারেন কিন্তু অনুসরণীয় আদর্শ হতে পারবেন না। কারণ দেবদাস কখনো আদর্শ হয় না, দেবদাসকে অনুসরণ করা যায় না। বড়জোর সে সবার করুণা লাভ করতে পারে।

২. পরিকল্পনার অভাব :
একটি সুন্দর পরিকল্পনা হচ্ছে যেকোনো কাজ সুসম্পন্নের অর্ধেক। পরিকল্পনা ছাড়া আপনি অনেক কাজ করতে পারেন কিন্তু কাজের ফসল পরিপূর্ণভাবে ঘরে তুলতে পারবেন না। আপনি ঘুম থেকে উঠে খুব সুন্দর একটি দিন পেলেন অথচ আপনার কোনো পরিকল্পনা নেই। আপনি ঐ দিনটির সদ্ব্যবহার করতে পারবেন না। কিংবা আপনাকে এক কোটি টাকা দেয়া হলো। কিন্তু কীভাবে টাকা খরচ করবেন আপনি জানেন না। আপনার টাকাগুলো বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারবেন না। এ টাকা খরচ হবে, অপব্যয় হবে কিন্তু বিনিয়োগ হবে না।

৩. সময়কে গুরুত্ব না দেয়া :
বাইবেলে বলা হয়েছে, এই পৃথিবীতে প্রতিটি কাজের একটি উদ্দেশ্য, একটা কাল ও একটা সময় আছে। জন্মাবার একটা সময় আছে, মরবারও একটা সময় আছে। গাছ রোপণ করার একটা সময় আছে আর রোপিত গাছ উপড়ে ফেলারও একটা সময় আছে।
মূল্যবান সময়ের অনেকটাই আমরা এমনি এমনি নষ্ট করে ফেলি। জাতি হিসেবে আমাদের পশ্চাৎপদতার মূল কারণ এই সময়কে মূল্য না দেয়া। আমাদের দেশে প্রশ্ন ওঠে- নয়টার গাড়ি কয়টায় ছাড়বে?

শৃঙ্খলাকে নিজের জীবনে ধারণ করতে হলে-

১. কাজের অগ্রাধিকার স্থির করুন:
প্রতিদিন সকালে একটি ছোট কাগজে ‘আজকের করণীয়’ গুলো লিখে ফেলুন। তারপর গুরুত্বের ভিত্তিতে এক থেকে দশ পর্যন্ত নম্বর দিন। এক হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর দশ সর্বনিম্ন। সারাদিন কাগজটি সাথে রাখুন। কাজ হয়ে যাওয়া মাত্র ঐ কাজটির পাশে টিক চিহ্ন দিন।

২. লেগে থাকা:
আমাদের বড় সমস্যা হলো আমরা কাজ শুরু করি কিন্তু লেগে থাকতে পারি না এবং এক্ষেত্রে আমাদের বড় বাধা হলো আলস্য। এই জাল ছিন্ন করতে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করুন যে, যখন কোনো কাজ শুরু করবেন তা শেষ করে তবেই উঠবেন। কালকের জন্যে কিছু ফেলে রাখবেন না।

৩. মেডিটেশন করুন:
অবচেতনে যদি কোনো ব্যাপারে অনীহা থাকে তবে সচেতনভাবে আপনি যত প্রচেষ্টা চালান না কেন তা কখনো বাস্তবায়িত হবে না। অনেকে মুখে বলেন যে, সকাল বেলা ঘুম থেকে জাগবো কিন্তু ভেতরে রয়েছে একটু বেশি ঘুমুতে পারলে ভালোই হতো। তখন দেখা যায় যে ঠিকই সকালে আর ঘুম থেকে তিনি জাগতে পারছেন না। মেডিটেশন আপনার অবচেতন মনের অনীহা দূর করতে সাহায্য করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com