
পরিবারের জন্য ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার নজির আছে অনেক। কিন্তু বাবার মৃত্যুও ক্রিকেট থেকে দূরে রাখতে পারেনি তেমন ক্রিকেটারও আছেন। তিনি হলেন বর্তমান ভারত ক্রিকেটের টেস্ট অধিনায়ক ও তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলি।
সুখ কিংবা দুঃখ কোন কিছুই কোহলিকে বিচলিত করতে পারে না। কোন কিছুই ক্রিকেট থেকে তাকে দূরে রাখতে পারে না। তার কৈশোরে একটা বিরাট ধাক্কা এসেছিল তার ক্রিকেট থামিয়ে দেওয়ার মতো। কিন্তু তাকে থামাতে পারেনি।
কোহলির বয়স তখন ১৮। ২০০৬ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার বাবা মারা যান। সে সময় কোহলি রঞ্জি টুর্নামেন্ট খেলছিলেন। ৪০ ওভার ব্যাট করে ৯০ রান করে দিল্লিকে ফলো-অন থেকে বাঁচান। অথচ তিনি ব্যাটিংয়ে নামার আগেই বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছিলে
একজন ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে দায়িত্ব নেওয়ার গুন তার সেই কৈশোর থেকেই। শুধু মাত্র সেঞ্চুরি দিয়েই দলকে জেতানো যায় না। মাঝে মাঝে ৮০ বা ৭৫ বা ৭০ রানও দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর কোহলি দলের ভালোর জন্য এ ধরণের রান সেই কৈশোর থেকেই করে আসছে।
বাবার মৃত্যুর পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেছে। এখন তার বয়সও ২৭।
আমার জীবনের সব থেকে কঠিন সময় ছিল সেটা; কিন্তু পরদিন সকালে উঠে নিজের ভিতর থেকেই আওয়াজ এল খেলতে হবে।’
তার পরই কোচকে ফোন করে বললাম, ‘আমি কোচকে ফোন করেছিলাম।’ আমি বললাম, ‘আমি খেলতে চাই। কারণ, আমার জন্য ক্রিকেট ম্যাচকে মাঝ পথে ছেড়ে দেওয়াটা অন্যায়। ঠিক সেই সময় অনেকটা বদলে গেলাম। আমাকে মানুষ হিসেবে বদলে দিয়েছিল সেই সময়টা। বুঝতে পারলাম ক্রিকেট আমার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’
বাবার মৃত্যুও তাকে ক্রিকেট থেকে ফেরাতে পারেনি। জীবনটাই তখন থেকে বদলে গিয়েছিল কোহলির। বুঝলেন ক্রিকেটছাড়া তার জীবনে আর কিছু নেই। এরপর অনেক খারাপ সময় থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছে এই ক্রিকেটই।