বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মব সৃষ্টি করে লুট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর প্রতিবাদ মির্জা ফখরুল সম্পর্কে যে কারণে কোনো মন্তব্য করতে চান না অলি আহমদ হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরাইলের ‘বিপর্যয়কর’ নীতির সমালোচনায় সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত ইরানে মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা ৩০টির বেশি দেশের ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ ৫ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : মির্জা ফখরুলের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বিএনপি উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে মেধাবী তরুণ নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী দল ও সরকারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি: নতুন অধ্যায়ে মির্জা ফখরুল তিন পার্বত্য এলাকায় খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা

ফাইনালের আবহে লড়াইয়ের ঝাঁজ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : 4:38 pm, শনিবার, ৭ মে, ২০১৬

সেমিফাইনাল জেতার পর চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ যোশেফ পাভলিক হেসে বলেছিলেন ‘ফ্রেন্ডশিপ ফাইনাল’। দুই আবাহনীর ফাইনালের লড়াইয়ে বন্ধুত্বের আবহ থাকবে মনে করলেও সেটা বড় ভুল। দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যাবে এখন আর চিরন্তন প্রথা মেনে কিছু চলছে না। সেই রাজনীতিতে দেখেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপির লড়াই থিতিয়ে গেছে। মোহামেডান জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, তাই একসময়ের আকর্ষণীয় আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ এখন হয়ে পড়েছে নিস্তেজ। চিরন্তন প্রতিপক্ষ রুগ্ণ হয়ে পড়ায়  চারদিকে চলছে এখন নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি। বাফুফে নির্বাচনেও একপক্ষীয় লোকজন শেষ পর্যন্ত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে উপহার দিয়েছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে শোরগোল তোলা নির্বাচন। ইদানীং সব কিছুতেই নিজেরাই পক্ষ-প্রতিপক্ষ। তাই বলে আগুনে উত্তাপের কোনো ঘাটতি হচ্ছে না। হবে না আজ স্বাধীনতা কাপের ফাইনালেও। ঢাকা আবাহনী-চট্টগ্রাম আবাহনীর এই শিরোপার লড়াই উত্তাপের সব অনুষঙ্গ নিয়েই বিকেল সাড়ে ৫টায় হাজির হবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে।023205Pic-12 ঢাকা আবাহনী এখনো ভোলেনি ছয় মাস আগের ক্ষত। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে ঢাকা আবাহনীকে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। সেটা মনে করে আবাহনী ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু যেন এখনো যন্ত্র্রণা অনুভব করেন, ‘আগে আমরা হেরেছি কিনা মনে পড়ছে না, কিন্তু চট্টগ্রামের টুর্নামেন্টে তারা আমাদের হারিয়ে…।’ বছর তিনেক আগের লড়াই হলে বন্ধুত্বের আবহ হয়তো থাকত, কিন্তু ওই হার এবং হঠাৎ করে চট্টগ্রাম আবাহনীর ‘বড়’ হয়ে ওঠায় এখন দুই পক্ষের মাঠের লড়াই সব সময় ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। দুই দলই দেখছে শিরোপার স্বপ্ন। দেশের ফুটবলে বড় পরাশক্তি হয়েও ঢাকা আবাহনী গত পাঁচ বছর ধরে কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে না। তারা সর্বশেষ ২০১১ সালে ফেডারেশন কাপ ও সুপার কাপ জেতে। এরপর ২০১২ সালে লিগ জিতলেও এরপর আর সুলক্ষণা কিছু ঘটেনি আকাশি-হলুদ জার্সিতে। স্বাভাবিকভাবেই অনেক ক্ষুধা নিয়েই আজ মাঠে নামছে অমলেশ সেনের ঢাকা আবাহনী। ক্রোয়েশিয়ান কোচ দ্রাগো মামিচ পরিবারিক কারণে নিজের দেশে ফিরে গেছেন। ফের আসারও কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই আবাহনীর আপত্কালীন কোচ অমলেশ সেনই ভরসা। তিনি শিরোপার ম্যাচে তাঁর দলকে এগিয়ে রাখছেন এভাবে, ‘আমরা শেষ দুটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, সেই খেলা ধরে রাখতে পারলে চ্যাম্পিয়ন হব। তিন বিদেশির ওপরই কেবল নির্ভর করছি না, আমাদের ডিফেন্সটাও বেশ ভালো। আমরা অপরাজিত থেকেই ফাইনাল খেলতে যাচ্ছি।’ স্বাধীনতা কাপে এ পর্যন্ত ছয় ম্যাচ খেলে তারা জিতেছে চারটি এবং ড্র করেছে দুটি। সর্বশেষ দুটি ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা দিয়েছে তারা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে জুয়েল রানার গোলে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে তারা। সেমিতে সানডে চিজোবার আগ্রাসনে আরেক পরাশক্তি শেখ জামালকে বিধ্বস্ত করে ৬-০ গোলে। দুই পরাশক্তির বিপক্ষে জয় তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলার পাশাপাশি তাদের বড় শক্তির জায়গা ফরোয়ার্ডের তিন বিদেশি। ছয় ম্যাচে ১৫ গোলের মধ্যে ১৩টিই করেছেন সানডে-কামারা-লি টাক ত্রয়ী। সেমিফাইনালে মাঝমাঠে ইংলিশ ফুটবলার লি টাক দুর্দান্ত খেলে দুই ফরোয়ার্ডের পায়ে বল তুলে দিয়ে দারুণ সব গোলের সুযোগ করে দিয়েছেন। সুতরাং ফাইনালেও বিদেশি ত্রয়ীর দিকে চেয়ে থাকবেন কোচ। কিন্তু চট্টগ্রাম আবাহনীর যোশেফ পাভলিক একদম উল্টো রথের সারথি। এই স্লোভাক কোচ মনে করেন, ‘আমার মতে ফাইনালে দুটি দল উঠলেও টুর্নামেন্টের সেরা দুটি দল ওঠেনি।’ তাঁর কথায় স্পষ্ট ঢাকা আবাহনী ফাইনালে ওঠার মতো সেরা নয়! এরপর আবার যোগ করেছেন, ‘ফাইনালের প্রতিপক্ষ অনেক শক্তিশালী। তাদের বিপক্ষে লড়াই করার মতো শক্তি আমাদের আছে। এ পর্যন্ত তারা যে কটা ম্যাচ খেলেছে তাতে আমি খুশি। আমি বলেছি, ফাইনালটা যেন তারা উপভোগ করে।’ আগে রেলিগেশন লড়াইয়ে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনী দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে। ফাইনালে দুই দলের কাটাছেঁড়া করলে অবশ্য ঢাকা আবাহনীই এগিয়ে থাকে। মাঠের সব দিক দিয়ে এগিয়ে থাকে। কিন্তু ফাইনাল ভাগ্যে বোধ হয় চট্টগ্রাম আবাহনীই এগিয়ে। ছয় মাস আগে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কেউ ভাবেনি স্বাগতিকরা চ্যাম্পিয়ন হবে। অন্য ক্লাব থেকে ধারে ফুটবলার নিয়ে খেলেছে ওই টুর্নামেন্ট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ভাঙাচোরা চট্টগ্রাম আবাহনীই ফাইনালে কলকাতা ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেই ভাঙাচোরা দলটি গুছিয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে। চলতি মৌসুমের পরাশক্তিও বটে। আজ ফাইনাল জিতলে পরাশক্তির খ্যাতিটা আরেকটু পোক্ত হবে বৈকি। এ জন্য জ্বলে উঠতে হবে বিশেষ ফুটবলার মরোক্কোর তারিক আল জানাবি ও হাইতির লিওনেল প্রেক্সকেই। দুই পরাশক্তির আড়ালে ফাইনালের লড়াইটা তো দুই পক্ষের বিদেশির মধ্যেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com