
১২০ মিনিটে ১-১ গোলে সমতার লড়াই শেষে ভাগ্যের হাতেই মার খেয়ে গেল শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। টাইব্র্রেকারে গিয়ে নেতিয়ে পড়েন মিঠুন চৌধুরী ও শাহেদুল আলম। উল্টোদিকে চট্টগ্রাম আবাহনীর কোনো সমস্যা হয়নি। তাদের নিখুঁত টানা চার শটে ৪-২ গোলে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রকে হারিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী প্রথমবারের মতো পৌঁছেছে স্বাধীনতা কাপের ফাইনালের মঞ্চে। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ঘরোয়া ফুটবলে এটাই তাদের বড় সাফল্য। আগামী শনিবার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের। ‘এটা হবে ফ্রেন্ডলি ফাইনাল’—হাসতে হাসতেই বলেছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ যোশেফ পাভলিক। তবে নাম এক হলেও তারা আগের মতো ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে নেই। মাঠে কেউ এতটুকু ছাড় দেয় না। আপাতত তিনি সেমিফাইনাল জয়েই থাকতে চান, রাসেল কোচ মারুফুল হকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এসে তিনি সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন টাইব্রেকারের বৈতরণী পার করে দেওয়ার জন্য, ‘টাইব্রেকার ব্যাপারটাই হলো জুয়া, ভাগ্য আজ আমাদের সঙ্গী হয়েছে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তবে প্রথমার্ধে ওদের (শেখ রাসেল) আধিপত্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভালো খেলেছি।’ অথচ এই কোচ দল তৈরি করারও যথেষ্ট সময় পাননি, ‘এই টুর্নামেন্টটা আসলে প্রস্তুতিমূলক, আমার দল সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে। এটা সামনের দিনগুলোতে আমাকে সাহায্য করবে।’ আগের দিন ৬ গোলের সেমিফাইনালের পর দ্বিতীয় সেমিফাইনাল সম্পূর্ণ উল্টো। গোল যেন বড় কঠিন বস্তু, তবে কালকের এই সেমিফাইনালে কারো একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল না। প্রথমার্ধে শেখ রাসেল তুলনামূলক ভালো খেললেও গোলের জন্য ঠিক মরিয়া হয়নি।
বরং গোল না খাওয়ার দিকেই ছিল বেশি নজর। এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে শেখ রাসেলের ফুল ব্যাক আতিকুর রহমান বল নিয়ে একদম বাইলাইনের কাছাকাছি পৌঁছে চমত্কার বল ঠেলেন সাখাওয়াত হোসেনের পায়ে। ফাঁকায় দাঁড়ানো এই ফরোয়ার্ডের ডান পায়ের গড়ানো শট আবাহনী গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম কোনো রকমে ঠেকিয়েছেন। কিন্তু বলটি সোজা ওপরে উঠে গেলে ফিকরু তেফেরার হেডে বল জালে পৌঁছে আশ্রয় নিলে শেখ রাসেল এগিয়ে যায়। এগিয়ে যান এই ইথিওপিয়ান স্ট্রাইকারও, ৬ গোল নিয়ে তিনি গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে সঙ্গী হয়েছেন আবাহনীর সানডে চিজোবা ও বিজেএমসির এলিটা কিংসলের। এর চেয়ে বড় কথা, এগিয়ে থেকে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের বিরতিতে যাওয়ার তৃপ্তি। আরেকটা সন্তুষ্টি তাদের ডিফেন্স সুরক্ষিত ছিল ৪৫ মিনিট আর সেখানে আস্থার প্রতীক হয়ে ছিলেন বুরুন্ডির ডিফেন্ডার নাহায়ো ভ্যালেরি। কিন্তু রাসেলের এই ডিফেন্স ৬৬ মিনিটের গোল রুখতে পারেনি। আনমার্কড ছিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর রুবেল মিয়া, তাই লিওনেল প্রেক্সের চমত্কার ক্রসটি তাঁর পা ছুঁয়ে পৌঁছে যায় জালে। সমতায় ফেরার পরের মিনিটেই রাসেলের কৌশিক বড়ুয়া সুযোগ পেয়েও ক্রসবার উঁচিয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেছেন। তবে ৮২ মিনিটে ফিকরুর পায়ে গোলের হাতছানি থাকলেও ওয়ান টু ওয়ানে বল নিয়ে ঢুকে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেননি রাসেল গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে। শেখ রাসেল কোচ মারুফুল হক ম্যাচ শেষে ফিকরুর ফিটনেসের ঘাটতির কথা বলেছেন, ‘ফিকরুর ফিননেসের ঘাটতি ছিল, তার পায়ে বল দিলে সে রাখতে পারছিল না। গত দশ দিন প্র্যাকটিসে না থাকলে তো এটা হবেই। ইনজুরির জন্য সে প্র্যাকটিস করতে পারেনি।’ তাদের গোলের লোক কেবল ফিকরুই, বারবার গোলের জন্য তাঁর পায়ে বল ঠেললেও কড়া প্রহরায় থাকার কারণে এই ইথিওপিয়ান স্ট্রাইকার বল নিয়ে ছুটতে পারেননি। প্রথমে ফরোয়ার্ড লাইনে তাঁর সঙ্গী হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন থাকলেও তেমন অবদান নেই। তাঁকে উঠিয়ে মিঠুন চৌধুরী মাঠে নামলেও দলের খেলায় কোনো হেরফের হয়নি। ম্যাচের শেষদিকে বরং একটি সুযোগ পেয়েও বক্সের ভেতর থেকে নিরীহ শটে বলটা তুলে দিয়েছেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের হাতে। তাদের ব্যর্থতায় নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলের সমতার ম্যাচটা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। সেটা নিষ্ফলা হওয়ার পর টাইব্রেকারে শেখ রাসেলের ফিকরু ও ভ্যালেরি গোল করলেও পরের দুটো শটে মিঠুন মেরেছেন বাইরে আর শাহেদুল আলম তুলে দিয়েছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলামের হাতে। চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে চারটি শটেই লক্ষ্য ভেদ করেছেন তারিক আল জানাবি, অ্যালিসন উডোকা, লিওনেল প্রেক্স ও জাহিদ হোসেন।