
কারো কাছে তিনি মহারাজ, কেই বলে ‘প্রিন্ট অফ কলকাতা’, কেই ডাকে দাদা। যে নামেই ডাকা হোক না তাকে তিনি যে ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক তাতে কোন সন্দেহ নেই।আর তাকে কিনা অবসর নিতে হয়েছে অনেকটা রাগে ক্ষোভে দু:খে।
যার কারনে ক্রিকেটকে গুডবাই জানাতে হয়েছে সৌরভের সেই মহেন্দ্র সিংহ ধোনি সম্পর্কে সৌরভের মনোভাব কি জানেন ক্রিকেটপাগলরা?
ধোনি যখন ভারত অধিনায়ক মনোনিত হয় , তখন প্রতিটি ম্যাচে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচকদের কাছে তারুন্যের জয়ধ্বজা ওড়াতেন রাঁচির রাজপুত্র। নির্বাচকদের বুঝিয়ে দিতেন তিনি সিনিয়র ক্রিকেটারদের দলে প্রয়োজন নেই। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, শচিন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়রা

তখন সিনিয়র ক্রিকেটার। অর্থাৎ ভারতীয় ক্রিকেটের ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরদের দরকার নেই ধোনির দলে। ভারতীয় ক্রিকেটমহলে কান পাতলে এমনটাই শোনা যায়। এমনও শোনা যায়, সৌরভকে দলে না-নেওয়ার জন্য বেছে বেছে যুক্তি পেশ করতেন ধোনি। আর সেই যুক্তির ভিত্তিতেই নির্বাচকরা সৌরভকে দলের বাইরে রেখেই টিম গঠন করতেন।
এ তো গেল ধোনির কথা। মাহি সম্পর্কে সৌরভ কী ভাবতেন? ধোনিকে নিয়ে কী ভাবতেন মহারাজ? তখন ভারতীয় ক্রিকেটে ধোনি-জমানা। সৌরভ সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে খেলছেন তখনও। ধোনির দলপরিচালনা দেখে ‘প্রিন্স অফ কলকাতা’স্বয়ং বলেছিলেন, ‘‘মাঠে নামার আগে ধোনির উচিৎ আরও বেশি করে টিম মিটিং করা।’’ ধোনি সেই সময়ে খুব বেশি টিম মিটিং করতেন না বলেই অভিযোগ ছিল সৌরভের। আর সৌরভের কাছ থেকে এ বক্তব্য শুনে সাংবাদিকরাও ধোনিকে প্রশ্ন করে বসেছিলেন। বিষয়টা ভাল ভাবে নেননি ধোনি।
অবশেষে ২০০৮-এর মহাঅষ্টমীর দিন সৌরভ ক্রিকেটবিশ্বকে জানিয়ে দেন তিনি আর বাইশ গজে ফিরবেন না। সেই সময়ে ধোনির প্রতি ভিতরের রাগ উগড়ে দিয়েছিলেন সৌরভ। প্রকাশ্যে অবশ্য কারও নাম উচ্চারণ করেননি মহারাজ। নাম না-করে ধোনি প্রসঙ্গে মহারাজ বলেছিলেন, অনেকে যতবার চুলের রং পরিবর্তন করেছে, তত রানই করেনি ভারতের হয়ে। তবুও তাঁরা খেলে যাচ্ছেন আর সৌরভকে অবসর নিতে হচ্ছে। এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন ‘প্রিন্ট অফ ক্যালকাটা’। সেই সময় ধোনির চুল নিয়ে সারা ভারতে আলোড়ন হত।