
তাকে বলা হতো শুদ্ধ ব্যাটিংয়ের প্রতীক। ডাকা হতো ‘দ্য ওয়াল’ নামে। রাহুল দ্রাবিড় কি তবে কোচিং পেশাতেও স্পেশাল ওয়ান হওয়ার পথে রয়েছেন? রাজস্থান রয়্যালসকে সাফল্য এনে দেওয়ার পর ভারতের বয়সভিত্তিক দলগুলোকে বড় সাফল্য এনে দিয়েছেন। এখন আইপিএলে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের তরতর এগিয়ে যাওয়া দেখে মনে হচ্ছে এ শুধু দ্রাবিড়ীয় যাদু! মঙ্গলবার রাতে দিল্লি ১৬ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে শীর্ষে থাকা সুরেশ রায়নার গুজরাট লায়ন্সকে।
১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে দিল্লির অবস্থান দুই নম্বরে। বড় পরাজয়েও শীর্ষচ্যুত করা যায়নি গুজরাটকে। দিল্লির সমান পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা রয়েছে তিন নম্বরে। রাজকোটে এদিন গুজরাটের ছুঁরে দেওয়া ১৫০ রানের লক্ষ্য দিল্লির ব্যাটসম্যানরা হেসে-খেলে অতিক্রম করে গেছেন। কুইন্টন ডি কক এবং ঋসব পন্ট উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেন ১১৫ রান। ৪০ বলে নয় চার, দুই ছক্কায় ঋসব পন্ট ৬৯ এবং কক ৪৫ বলে খেলেন ৪৬ রানের ইনিংস। দিল্লির জয়ে বাকি কাজটুকু সারেন সনজু স্যামসন (১৩ বলে ১৯) এবং জেপি ডুমিনি (৭ বলে ১৩)। জাদেজা ১৯ এবং কৌশিক ২৯ রানে পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।
এরআগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটের বিনিময়ে গুজরাট স্কোরবোর্ডে জমা করে ১৪৯ রান। ১৭ রানে দুই ওপেনার ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (১) এবং ডুয়েন স্মিথকে (১৫) হারিয়ে চাপে পড়ে রায়নার দল। সেই চাপটা আরও বাড়িয়ে দেন অ্যারণ ফিঞ্চ ব্যক্তিগত ৫ রানে আউট হয়ে। ২৪ রানে সেরা ৩ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে কাঁপতে থাকে গুজরাট। এখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন অধিনায়ক রায়না এবং দিনেশ কার্তিক চতুর্থ উইকেটে ৫১ রান যোগ করে। ৭৫ রানে রায়নাকে (২০ বলে ২৪) স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন অমিত মিশ্র।
পরে ফিফটির দেখা পান কার্তিক। তার আগে রবিন্দ্র জাদেজাকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে তুলে ফেলেন ৫২ রান। ১২৭ রানে মোহাম্মদ শামির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৪৩ বলে পাঁচ চারের সাহায্যে কার্তিক খেলেন ৫৩ রানের ইনিংস। ২৬ বলে চার বাউন্ডারি, এক ছক্কায় ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন জাদেজা।
২৩ রানে ২ উইকেট নিয়ে দিল্লির সবচেয়ে সফল বোলার শাহবাজ নাদিম। মিশ্র ১৯, জহির ২৭, শামি ৩১ এবং ক্রিস মরিস ৩২ রান দিয়ে পেয়েছেন ১টি করে উইকেট। দুরন্ত ব্যাটিং করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ১৮ বছরের তরুণ ঋসব পন্ট।