
চ্যাম্পিয়ন লীগ থেকে বিদায়ের পর সময়টা খুব ভাল যাচ্ছিল না মেসি নেইমার সুয়ারেজদের। লা লিগায় পয়েন্ট টেবিলে বার বার পালা বদল। অবশেষে আবারও শীর্ষে ফিরল বার্সা।
প্রথম ম্যাচ জিতে শীর্ষে উঠেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। মাঝে কিছুক্ষণ আতলেতিকো মাদ্রিদ সবার উপরে থাকলেও শেষ ম্যাচে রিয়াল বেতিসকে হারিয়ে আবার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করলো লুইস এনরিকের দল।
শনিবার রাতে ইভান রাকিতিচ ও লুইস সুয়ারেজের গোলে ২-০তে ম্যাচ জিতে বার্সা। দুটি গোলেই দারুণ অবদান ছিল লিওনেল মেসির।
নিজেদের মাঠে গোলের প্রথম সুযোগটা পেয়েছিল বেতিস।
তবে স্ট্রাইকার রুবেন কাস্ত্রোর শট ঠেকিয়ে সে যাত্রা বার্সেলোনাকে রক্ষা করেন ডিফেন্ডার জেরার্দ পিকে। কর্নার থেকেও গোলের সুযোগ এসেছিল। তবে ব্রুনোর হেড লাফিয়ে উঠে আঙুল ছুঁইয়ে ক্রসবারের উপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন গোলরক্ষক ক্লাওদিও ব্রাভো।
বার্সেলোনার প্রথম গোল শট নেয় ২৯তম মিনিটে।

এক ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে নেওয়া নেইমারের শট ঠেকান গোলরক্ষক আন্তোনিও আদান।
৩৬তম মিনিটে রাকিতিচকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ডিফেন্ডার হাইকো ভেস্টারমানকে। দশ জনের দল নিয়েও বার্সেলোনার আক্রমণ সফলভাবে ঠেকিয়ে যায় স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধে বার্সেলোনার খেলা দেখে মনেই হয়নি দলটি লা লিগার গত দুই ম্যাচে ১৪ গোল করেছে।
বিরতির পর পরই সুবর্ণ একটি সুযোগ নষ্ট করেন সুয়ারেস। নেইমারের বাড়ানো বল পেয়ে খুব কাছ নেওয়া উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকারের শট গোল পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটের মধ্যে অবশ্য বেতিসের ভুলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। মেসি উঁচু করে ডি-বক্সে বল বাড়িয়েছিলেন। গোলরক্ষকের ব্যার্থতায় বল পেয়ে খালি জালে পাঠিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার রাকিতিচ।
৭৪তম মিনিটে আবারও সুয়ারেসের সুযোগ নষ্ট। মেসির বাড়ানো বল পেয়ে ১০ গজ দূর থেকেও গোলরক্ষক বরাবর শট নেন তিনি। কে বলবে গত দুই ম্যাচে আট গোল করেছেন তারকা এই স্ট্রাইকার।
৮১তম মিনিটে অবশ্য জয় নিশ্চিত করা গোলটি আসে সুয়ারেজের পা থেকেই। গোলটির অর্ধেক কৃতিত্ব অবশ্য মেসির। সময় নিয়ে অনেকটা দূর থেকে ডিফেন্ডারদের মাঝ দিয়ে ডি-বক্সে বল পাঠিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এবার নিখুঁত ফিনিশিংয়ের উদাহরণ দেখান সুয়ারেস। লা লিগার এই মৌসুমে সর্বোচ্চ এই গোলদাতার এটি ৩৫ নম্বর গোল।
লা লিগার আর মাত্র দুটি রাউন্ড বাকি থাকতে ৮৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকায় সমান পয়েন্ট নিয়েও দ্বিতীয় স্থানে আছে আতলেতিকো। আর তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়ালের পয়েন্ট ৮৪।
আগের রাউন্ডেও একই ভাবে পালা বদল শেষে শীর্ষে উঠেছিল বার্সেলোনা। লা লিগার শেষ দিকে তাই দারুণ জমজমাট শিরোপার লড়াই। তবে আগামী দুই ম্যাচে হোঁচট না খেলেই শিরোপা ধরে রাখতে পারবে বার্সেলোনা।