
সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলজুড়ে রান্নার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি হলেও সাধারণ ভোক্তারা সহজে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না।
নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বহু গুণ বেশি, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ২৬০০-২৭০০ টাকা গুনতেও বাধ্য হচ্ছেন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়া সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাভার ও আশুলিয়ার পাইপলাইনের আবাসিক গ্যাস সংযোগে দিনের বেশিরভাগ সময় চাপ থাকে না।
বাধ্য হয়ে এলাকার সিংহভাগ পরিবার রান্নার কাজের জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে তৈরি করা হয়েছে এক কৃত্রিম সংকট। খুচরা বাজারে বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দর থাকলেও বাস্তবে তা বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে।
পাইকারি ডিলার ও অসাধু চক্র অতিরিক্ত মুনাফার লোভে সিলিন্ডার মজুত করে বাজারে এ সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সাভারের রাজাশন, জেনভাল্লী, ব্যাংক কলোনি এবং আশুলিয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, বাড়তি টাকা দিয়েও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে দোকানগুলো থেকে।
সাভারের এক ক্ষুব্ধ ক্রেতা বলেন, “একদিকে গ্যাসের সংকটে রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার জোগাড়, অন্যদিকে চড়া দাম। দোকানে গিয়ে টাকা বাড়িয়ে দিতে চাইলেও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
এই অসাধু সিন্ডিকেটের কাছে আমরা সাধারণ মানুষ পুরোপুরি জিম্মি হয়ে পড়েছি।”পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি ও অনিয়মের দায়ে কয়েকটি ডিলার পয়েন্টকে জরিমানা করেছে।
কিন্তু এই অভিযানের সাময়িক প্রভাব কাটিয়ে আবারও চক্রটি বাজার অস্থির করে তুলছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভাঙতে সাভারের সর্বত্র স্থায়ী বাজার তদারকি, খুচরা ও পাইকারি ডিলারদের ক্যাশ মেমো যাচাইকরণ এবং নিয়মিত অভিযানের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
###