
অনলাইন ডেস্ক
রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের একাধিক সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়ামেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং এর ফলে বিমানবন্দরটির ফ্লাইট কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে আবারও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
হুতি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মক্কা ও মদিনা পবিত্র ভূখণ্ডের ওপরের আকাশসীমা ছাড়া সমগ্র সৌদি আকাশসীমা এখন থেকে ইয়ামেনি সামরিক অভিযানের অন্যতম মূল থিয়েটার বা অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন এজেন্সির বরাতে জানা যায়, বিমানবন্দরের পাশাপাশি রাস আল-আরা এলাকার কাওয়া ক্যাম্পে অবস্থানরত সৌদি বাহিনীর সেনা সমাবেশ ও তাদের সামরিক রসদ লক্ষ্য করে পৃথক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইয়াহইয়া সারির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই হামলাগুলোতে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়েছে, যাতে সৌদি বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য হতাহত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি প্রধান অস্ত্রাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও বাব আল-মানদাবের দক্ষিণাঞ্চল, আস-সাকিয়া এবং রাস আল-আরা এলাকায় সৌদি সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন অবস্থানে প্রায় একই সময়ে একাধিক সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
সংঘাতপূর্ণ এই অঞ্চলের আকাশেও শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে ইয়ামেনি বাহিনী। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারি জানান, তাইজ শহরের আকাশে শত্রুতামূলক অভিযান পরিচালনা করার সময় সৌদি বাহিনীর ব্যবহৃত একটি তুর্কি প্রযুক্তিতে তৈরি ‘বায়রাক্তার আকিনসি’ সশস্ত্র ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। সারি এর আগে আরও জানান যে, ইয়ামেনি সশস্ত্র বাহিনী একযোগে সৌদি বাহিনীর অন্তত ১১টি সামরিক বিন্যাস ও অবস্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং কথিত ১৩তম জায়ান্টস ব্রিগেড-এর একটি বিশেষ সামরিক ইউনিটকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
সারির বক্তব্য অনুযায়ী, বাব আল-মান্দেব, আস-সাকিয়া, রাস আল-আরা এবং আল-মুদারাবা অঞ্চলের দক্ষিণাংশে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর ওপর চালানো এসব অভিযানের ফলে বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারসহ বহু সেনা সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন, পাশাপাশি ধ্বংস হয়েছে তাদের অসংখ্য সামরিক যানবাহন। এর মধ্যে বিশেষ করে বন্দিদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়া কথিত ‘১৩তম জায়ান্টস ব্রিগেড’-এর একটি কোম্পানির ওপর নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ৩০ জনেরও বেশি সেনাকে হতাহত করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, পূর্বাঞ্চলীয় আল-জাওফ গভর্নরেটে হুতি অবস্থানে ঢুকে পড়ার সৌদি বাহিনীর একটি বড় প্রয়াস বানচাল করে দেওয়ার দাবি করেছে ইয়ামেনি বাহিনী। জেনারেল সারি জানান, সৌদি সমর্থিত বাহিনী তাদের অগ্রযাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করলে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও শক্তিশালী ড্রোন হামলার মাধ্যমে তাদের হামলা পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেওয়া হয়। প্রতিরোধমূলক এই অভিযানে সৌদি বাহিনী তাদের কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বরং প্রতিপক্ষের বহু সেনা হতাহত হয়েছে এবং তাদের বেশ কিছু সামরিক যানবাহন একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে।