প্রকৌশলী এস. এম. শাহীন শুধুই একজন সংগঠক বা পেশাজীবী নন, বরং একজন নিঃস্বার্থ সমাজসেবক, যিনি প্রচারের চেয়ে কাজকে প্রাধান্য দেন, যিনি আলো চান না, বরং আলোর মানুষ হতে চান।
প্রচারবিমুখ অথচ নিবেদিতপ্রাণ : প্রচারবিমুখতা এই সময়ে একটি বিরল গুণ। মানুষ যখন একটি ছবি, একটি ভিডিও, একটি বক্তব্যের মধ্য দিয়েই প্রশংসা কুড়াতে চায়, তখন এস. এম. শাহীন নির্বিকার, নিরব। তিনি নিজের কাজ, নিজের অবদান, এমনকি নিজের উপস্থিতিও ঢেকে রাখেন যেন একজন প্রকৃত সেবক শুধু কাজ দিয়ে কথা বলেন। ভয়েস অব কাজিপুর এর বিভিন্ন ত্রাণ কার্যক্রম, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা অনুদান, রক্তদানের মতো মানবিক উদ্যোগে তাঁর সহযোগিতা অগণন, অমূল্য।
ভয়েস অব কাজিপুর-এর নেপথ্যের কান্ডারী : ভয়েস অব কাজিপুর একটি মানবিক প্ল্যাটফর্ম যা সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় অসহায়, দুঃস্থ ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পরিচিত। এই সংগঠনের সফলতার পেছনে অনেক নিবেদিত প্রাণের অবদান থাকলেও এস. এম. শাহীন সেই অদৃশ্য বলয়ের একজন, যিনি সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য নিজের কর্মজীবনের ফাঁকে ফাঁকে সময় দান করে চলেছেন। বন্যা কবলিত এলাকার ত্রাণ বিতরণ হোক, চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া হোক, কিংবা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো—সবখানেই তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়, যদিও তিনি নিজে কখনো সামনে আসেন না।
স্পষ্টভাষী ও আপোষহীন : এস. এম. শাহীন একজন স্পষ্টভাষী মানুষ। তাঁর কথায় কোনো অস্পষ্টতা নেই, কোনো রঙচঙে আবরণ নেই। তিনি সত্য বলেন, অন্যায়কে ঘৃণা করেন এবং ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন। এই বৈশিষ্ট্যের জন্য তিনি হয়তো কখনো কখনো সমালোচিতও হয়েছেন, কিন্তু আপোষ করেননি। তাঁর সততা, নির্ভরযোগ্যতা এবং নীতিনিষ্ঠতা তাঁকে ভয়েস অব কাজিপুর এবং কাজিপুরবাসীর মনে আলাদা একটি জায়গায় এনে দিয়েছে।
ব্যক্তিজীবন ও মূল্যবান সময়ের ত্যাগ : প্রকৌশলী হিসেবে ব্যস্ত একটি পেশাগত জীবন থাকলেও শাহীন মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজের মূল্যবান সময় ও শ্রম ব্যয় করে চলেছেন। অনেক সময় দেখা গেছে, ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনের আগে তিনি সামাজিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েছেন। একাধারে তিনি একজন দায়িত্ববান পেশাজীবী, অপরদিকে একজন নিরলস সমাজসেবক—এই দুই ভূমিকার ভারসাম্য রক্ষা করা সত্যিই প্রশংসনীয়।
মানবিকতা যার মূলমন্ত্র : ভয়েস অব কাজিপুর এর সাথে যুক্ত হয়ে শাহীন সাহেব শুধুই দাতব্য নয়, দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে অন্য অনেক তরুণ অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজসেবায় যুক্ত হয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজকে বদলাতে হলে শুধু আর্থিক দান নয়, মন ও মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁর নেতৃত্বে ভয়েস অব কাজিপুর নতুন মাত্রা পেয়েছে।
শেষকথা : মানবতার নিরব আলো হয়ে যারা কাজ করেন, ইতিহাস তাদের লিখে রাখে হৃদয়ের খাতায়। প্রকৌশলী এস. এম. শাহীন সেই হৃদয়ের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম। #