
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ঘিরে চলমান তদন্ত নিয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন তিনি। ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) পরিচালিত এই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না ৩৪ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভিকে রিজওয়ান জানিয়েছেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং আপাতত সেটি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তদন্ত শেষ হলে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তান দলের ড্রেসিংরুমের বিভিন্ন তথ্য বাইরে চলে যাওয়া এবং জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড সফর ঘিরে তৈরি হওয়া কয়েকটি বিতর্ক।
জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে দুই ক্রিকেটারের আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না, সেটিই যাচাই করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
এর আগে ইংল্যান্ড সফর থেকে পাকিস্তানের সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর পর নির্বাচক কমিটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে রিজওয়ান ও ইমামকে কেন রাখা হয়েছিল, সেটিও বোর্ডের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে রিজওয়ানের ব্যাটে অবশ্য খুব একটা সাফল্য দেখা যায়নি। দুই টেস্টের সিরিজে তিনি মোট ৪১ রান করেন, যেখানে দ্বিতীয় টেস্টে করা ১৮ রানই ছিল তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। যদিও ওই সফরের আগে পাকিস্তানের হয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল বেশ ধারাবাহিক। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও ছিলেন তিনি।
ইংল্যান্ড সফর থেকে রিজওয়ানসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রিকেটারদের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত শুধু মাঠের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হয়নি; এর সঙ্গে আরও কিছু বিষয় জড়িত ছিল। সেসব কারণ খুঁজে বের করার জন্য বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে ইংল্যান্ডের কাছে টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটের সংকট আরও গভীর হয়েছে। মাঠের ব্যর্থতার পাশাপাশি নানা বিতর্কও দলটির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থানও নেমে গেছে তলানিতে। বিভিন্ন কারণে তাদের পয়েন্ট থেকে ১১ নম্বর কেটে নেওয়া হয়েছে, ফলে মোট পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫-এ।