
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ এলাকা হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সোমবার অনুষ্ঠেয় বৈঠক স্থগিত করেছে ওমান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওমানের আয়োজনে এই বৈঠকে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
আরো পড়ুন-
তেহরান জানিয়েছিল, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলো বৈঠকে অংশ নেবে। তবে কোন কোন দেশ অংশ নেবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
এদিকে অঞ্চলটির কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
বাহরাইন অবশ্য আগেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা বৈঠকে অংশ নেবে না।
ওমান নিউজ এজেন্সি রোববার জানিয়েছে, ‘গঠনমূলক আলোচনার উপযোগী পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সোমবার সালালায় অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক বৈঠকটি পরবর্তীতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমাদের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতায় অবদান রাখে— এমন সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালী প্রথমে ইরান ও পরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মুখে পড়ে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে জুন মাসে হওয়া একটি সমঝোতা হরমুজ প্রণালী নিয়ে মতবিরোধের কারণে ভেস্তে যায়।
এর মধ্যে গত কয়েক দিনে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ব্যাপক হামলা তাদের মিত্র ইরানকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ— বাব আল-মান্দাব প্রণালী— নিয়ে বাড়তি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসেরও বেশি সময় পরও হরমুজ প্রণালীর অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে এবং চলতি সপ্তাহে তা ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে ওমান ও ইরান কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা করে আসছে।
যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে বর্তমানে ইরান এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে আগে অনুমতি নেওয়ার শর্ত দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রণালীটি ব্যবহারের জন্য সার্ভিস ফি বা ব্যবহারের মাশুল চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
ইরানের শর্ত না মানা জাহাজগুলো নিয়মিত দেশটির হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করতে যুক্তরাষ্ট্রও সময় সময় ইরানের উপকূলীয় এলাকায় বোমা হামলা চালাচ্ছে।