রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনে সিলেবাস ও কর্মপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে : মাহ্দী আমিন

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : 2:26 pm, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি ও নীতিমালার আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সিলেবাস ও কর্মপদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন।

শনিবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লিনারি সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও একইভাবে এগিয়ে এলে সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

‘ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত বাংলাদেশের জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম): উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড নির্মাণ’ শীর্ষক এই সেশনে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

তিনি বলেন, দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের (ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ) বিদ্যমান নীতিগত ব্যবধান দূর করতে হবে। এটি করা গেলে দেশেই কর্মসংস্থানমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

ভিসি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে এপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্টার্নশিপের ব্যবধান ঘুচিয়ে সমন্বিত ‘এসটিইএম ক্যারিয়ার গাইডেন্স’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ইন্ডাস্ট্রি-ফিট সার্টিফিকেট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

অধ্যাপক আমানুল্লাহ পরামর্শ দেন, সরকারের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের একটি অংশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে ব্যবহারে সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির পাশাপাশি সময়োপযোগী গবেষণার কাজ গতি পাবে।

এসটিইএম শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণের ঘাটতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ খাতে নারীদের উপস্থিতি এখনও আশাব্যঞ্জক নয়। তাই নারী শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তারা যাতে এগিয়ে আসেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় উৎসাহ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপকতার চিত্র তুলে ধরে ভিসি জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ গ্র্যাজুয়েট তৈরি হয়, যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখই আসেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে। তাই দক্ষ ও কর্মসংস্থানমুখী গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকাঠামোতে দ্রুত বড় ধরনের রূপান্তর (প্যারাডাইম শিফট) প্রয়োজন।

তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে আধুনিক ল্যাবরেটরি ও কম্পিউটার সুবিধা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। সরকারি উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহায়তায় এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি জরিপ চলছে জানিয়ে ভিসি বলেন, জরিপের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় প্লিনারি সেশনে অন্যান্যের মধ্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ম তামিম এবং ইউনিসেফ, ইউএনডিপি ও গ্রামীণফোনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া তিন দিনের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১০টি উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিসহ এর অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা এসব উদ্ভাবন নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছেন। মেলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১১ থেকে ১৫ নম্বর স্টল বরাদ্দ রয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com