তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামল ছিল ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের সময়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই শাসনের পরিণতি ঘটেছে।
শেখ হাসিনার শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন যারা নরম সুরে কথা বলছেন, শেখ হাসিনার আমল ভালো ছিল, আমি মনে করি তাদের কথার সঙ্গে জুলাইয়ের বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক, শ্রমিক, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। এটা তো সামগ্রিকভাবে জনগণের একটা বিরাট উত্থান। সেই উত্থানের পরিণতি হচ্ছে জুলাই। এত ভয়াবহ আত্মদান, এত মাসুম বাচ্চাদের মৃত্যু একজন ফ্যাসিস্ট কতটা ভয়ংকর আগ্রাসী হতে পারে, আমরা তার নমুনা দেখেছি।
জুলাই আন্দোলনের সময় বিএনপির ভূমিকা নিয়ে কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে দাবি করে রিজভী বলেন, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপি ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ছিল। তিনি বলেন, আজকে অনেকে নিজস্ব কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রতিক্ষণে, প্রতি মুহূর্তে ছাত্রদের আন্দোলনকে সংহতি জানানোর জন্য লন্ডন থেকে তারেক রহমান আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, কমপ্লিট শাটডাউন, বাংলা ব্লকেড, মার্চ ফর জাস্টিস—প্রত্যেকটি কর্মসূচিকে বিএনপি সমর্থন জানিয়েছে। আমাদের দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও রাস্তায় নেমেছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ছাড়াও বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ উপাচার্য ও ইউট্যাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।