
যুক্তরাজ্যের বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোর হারডসের সাবেক মালিক প্রয়াত মোহাম্মদ আল ফায়েদের নির্যাতনের শিকার অন্তত পাঁচ নারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মানবপাচারের ভুক্তভোগী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় আল ফায়েদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে মানবপাচারকে প্রধান অভিযোগ হিসেবে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আল ফায়েদ একা এসব অপরাধ সংঘটিত করেননি। তার সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে নারীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছে পাঠানো হতো। কেউ ভুয়া চাকরির প্রস্তাবে, আবার কেউ হারডসে বৈধভাবে নিয়োগ পাওয়ার পর সেখান থেকেই নির্যাতনের জন্য বেছে নেওয়া হত। এসব ঘটনা ১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু করে ২০১০ সালে হারডস বিক্রির পরও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ ‘অপারেশন কর্নপপি’ নামে একটি তদন্ত পরিচালনা করছে। তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কারা আল ফায়েদের অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছিলেন। তদন্ত শুরু হওয়ার ২১ মাসে এ পর্যন্ত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের একজন, যিনি ‘জাস্টিন’ ছদ্মনামে পরিচিত, জানান, গত জুনে তিনি আধুনিক দাসত্ব ও মানবপাচারের শিকার হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পান। তিনি বলেন, লিখিতভাবে নিজেকে মানবপাচারের শিকার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ছিল ‘অত্যন্ত তিক্ত’ একটি অভিজ্ঞতা।
আরেক ভুক্তভোগী ‘ইসাবেলা’, যিনি ২০০১ সালে হারডসে কাজ করতেন, দাবি করেন, হারডস ও আল ফায়েদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নারীদের তার কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরে তাদের মুখ বন্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তার ভাষ্য, শুধু হারডস নয়, আল ফায়েদের মালিকানাধীন ইয়ট, বিমান ব্যবসা, প্যারিসের রিটজ হোটেল এবং ফ্রান্স, মোনাকো, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন সম্পত্তিতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
১৯৭৭ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে আল ফায়েদের বিরুদ্ধে ৪০০টির বেশি যৌন অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, মানবপাচার, অবৈধভাবে আটকে রাখা, মাদক প্রয়োগ, শারীরিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক গর্ভপাতের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে ২০২৩ সালে ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুর আগে এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
এদিকে, হারডসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে সব ভুক্তভোগীর পাশে রয়েছে এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্তে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অভিযোগগুলো পরিচালনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও স্বাধীন পুলিশ আচরণবিষয়ক সংস্থা পৃথক তদন্ত চালাচ্ছে।