
গত দুই-তিন দিনের টানা বর্ষণে শরীয়তপুর জেলার জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। জেলার নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
জেলার সদর, জাজিরা, ভেদরগঞ্জ, নড়িয়া, ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও সখিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটে পানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেক কাঁচা সড়ক কাদায় পরিণত হওয়ায় গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ পথচারীরা প্রয়োজনীয় কাজে বের হতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অবিরাম বৃষ্টির কারণে ক্ষেতের আমন ধান, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মাছের ঘেরও পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।
অন্যদিকে পদ্মা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদী ভাঙন
সহ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে ।
বৃষ্টির কারণে স্থানীয় বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টিতে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের আয়ও কমে গেছে। দিনমজুরদের অনেকেই কাজ না পেয়ে মানবেতর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু এখনও সক্রিয় রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।