
চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় উত্তাল মেঘনার প্রবল ঘূর্ণি স্রোতে পড়ে ৫ হাজার বস্তা ধান ও চালবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে।
আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুরানবাজার ঘাটসংলগ্ন মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে কার্গোতে থাকা মাঝিমাল্লাসহ পাঁচ শ্রমিক সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
কার্গোটির চালক এরশাদ মাঝি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পাবনা থেকে ৩ হাজার ৫০০ বস্তা চাল এবং ১ হাজার ৫০০ বস্তা ধান নিয়ে ‘পারবো’ নামের কার্গোটি চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। আজ সকালে পুরান বাজার ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে তিন নদীর মোহনায় তীব্র ঘূর্ণি স্রোতের কবলে পড়ে। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কার্গোটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনিসহ পাঁচজন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে উল্টে যাওয়া কার্গোটি অন্য একটি কার্গোর সাহায্যে ডাকাতিয়া নদীর তীরে নিয়ে ভিড়িয়ে রাখা হয়।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন জানান, ডুবে যাওয়া ধান ও চাল পুরান বাজারের সাতজন ব্যবসায়ীর মালামাল। এ ঘটনায় তাদের প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসেন বলেন, কার্গোডুবির বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আপডেট জানানো হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) চাঁদপুর নদীবন্দরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, কিছুক্ষণ আগে ঘটনাটি জেনেছি। দুর্ঘটনার কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি জানতে আমাদের নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালক বাবু লাল বৈদ্যকে ঘটনাস্থলে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় সৃষ্ট তীব্র ঘূর্ণিস্রোত ও প্রতিকূল নৌ-পরিবেশের কারণে প্রায়ই নৌযান দুর্ঘটনা ঘটে। তাই এ নৌপথে চলাচলকারী কার্গো ও অন্যান্য নৌযানকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তারা।