
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ঘটে গেছে এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। নিখোঁজ হওয়ার ৬ দিন পর সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়ার গলিত ও দ্বি-খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত মারিয়া শায়েস্তা ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের মেয়ে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয় মারিয়া। এরপর পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। তবে এর পেছনে রয়েছে এক ধোঁয়াশা।
অভিযোগ উঠেছে, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সাথে মারিয়ার একটি আপত্তিকর অবস্থা ধরা পড়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উভয় শিক্ষার্থীকে টিসি (TC) দিয়ে দেয়। এরপর থেকেই মারিয়া নিজের মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখে নিখোঁজ হয়ে যায়। অবশেষে রোববার (২১ জুন) বিকেল ৫টার দিকে জামির্ত্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থান-সংলগ্ন পরিত্যক্ত ভিটার বাঁশঝাড় থেকে মারিয়ার স্কুলব্যাগসহ তার খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে সিংগাইর থানা পুলিশ। গলিত দেহটি দেখে স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফকে ইতিমধ্যেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
একটি নিষ্পাপ কিশোরীর এমন নির্মম পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সমাজ আজ এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।