
কানাডা ও মেক্সিকো মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএ আরও ১৬ বছরের জন্য নবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
তাদের আশা, এর মাধ্যমে তিনটি দেশকে একই বাণিজ্য কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ করা যাবে। যদিও এই চুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এই চুক্তিটি কানাডা ও মেক্সিকোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার এবং তাদের মোট রপ্তানির যথাক্রমে ৭৫ শতাংশ ও ৮০ শতাংশ সেখানে যায়।
কানাডার বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্ক সোমবার এক চিঠিতে বলেন, ‘কানাডা চুক্তিটি আরও ১৬ বছরের জন্য নবায়নের সুপারিশ করছে।’
চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ও মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ডকে পাঠানো হয়।
পরদিন তিনি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো (ইউএসএমসিএ) চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।
এরপর লেব্লাঙ্ক মঙ্গলবারের বৈঠককে ‘ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
ইউএসএমসিএ চুক্তির পক্ষভুক্ত দেশগুলোকে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে জানাতে হবে যে তারা কি শুধু চুক্তিটি নবায়ন করতে চায় নাকি পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন করতে চায়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে ইউএসএমসিএ চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও, বর্তমানে তিনি এটিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বর্তমান মেয়াদে তিনি কানাডার অটোমোবাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন এবং দাবি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা থেকে কোনো পণ্যের প্রয়োজন নেই।
তিনি বারবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও বলেছেন।
সম্প্রতি কানাডার অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে এক প্রতিবেদনের জবাবে তিনি কানাডাকে ‘৫১তম রাজ্য!’ হিসেবে মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলে দেশটি আরও শক্তিশালী হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো গত সপ্তাহে ইউএসএমসিএ চুক্তি সংশোধন নিয়ে প্রাথমিক দফার আলোচনা শেষ করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা মেক্সিকোর বাণিজ্য নীতিকে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচকভাবে দেখলেও কানাডার সমালোচনা করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, তিনি চুক্তির কিছু অংশ বজায় রাখার পক্ষে।
চিঠিতে লেব্লাঙ্ক উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে তিন দেশের মধ্যে বাণিজ্য ৩২ শতাংশ বেড়েছে, যা চুক্তির কার্যকারিতাকেই প্রমাণ করে।