দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় লিচুর মৌসুম শুরু হতে না হতেই বাজারগুলোতে অপরিপক্ক লিচু বিক্রির ধুম পড়েছে। অধিক মুনাফার আশায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা কাঁচা ও টক লিচু বাজারে নামিয়েছেন, যা নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পপতিবার উপজেলার পৌরবাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানীয় হাটবাজারে গিয়ে দেখা যায়, মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে লিচু দেখে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ৫০টি করে আঁটি বাঁধা অপুষ্ট ও কাঁচা অপরিপক্ক লিচু বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।
আকারে ছোট এবং স্বাদে টক হওয়া সত্ত্বেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব লিচু। বিক্রি হচ্ছে ক্যামিকেল দিয়ে রঙ্গিন করা অপরিপক্ক লিচু। এই লিচু খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, এসব লিচু ক্যামিকেল দিয়ে পাকানো হয়েছে।
বেশি লাভের আশায় বিক্রেতারা অপুষ্ট ও অপরিপক্ক লিচু সংগ্রহ করে তাতে ক্যামিকেল মিশিয়ে আকর্ষনীয় রংয়ে রঙ্গিন করে তুলছে। ক্রেতা বলেন, স্বাদহীন এ টক ও কষযুক্ত লিচু মুখে দিয়ে রাখা যাচ্ছে না ,ফলে মুখ থেকে ফেলতে বাধ্য হয়েছি। উপজেলা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রফিকুজ্জামান
জানান, বোম্বাই ও মাদ্রাজী লিচুর মৌসুম শুরু হবে মে মাসের শেষ দিকে। আর বেদেনা ও চায়না-৩ জাতের লিচু উঠবে জুন মাসে। তার আগে বাজারে যে লিচু আসছে সেগুলো ক্যামিকেল দিয়ে পাকানো অপরিপক্ক লিচু।
উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সোলাইম হাসান মেহেদি বলেন, ক্যামিকেল মিশ্রিত এই লিচু খেলে লিভার-কিডনীর মারাত্মক ক্ষতি ও পেটের পীড়া দেখা দিতে পারে। আর দীর্ঘ মেয়াদে এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
ঘোড়ঘাট উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ বাজারে অপরিপক্ক লিচু বিক্রি বন্ধে এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।