মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

কাজিপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, যমুনার তীরেআতঙ্কে মানুষ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : 4:57 pm, মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকার দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে পানির স্রোতে নদীর পশ্চিম পাড়ে তীর সংরক্ষণ এলাকায় আঘাত হানায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অসময়ের এই ভাঙন নদী পাড়ের মানুষের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজিপুর উপজেলার কাজিপুর মৌজায় বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী একটি মহল শুষ্ক মৌসুমে কাজিপুরে শহীদ এম মনসুর আলী ইকোপার্ক এলাকা, ঢেকুরিয়া, পলাশপুর, নতুন মেঘাই, মেঘাই ও মুসলিমপাড়া এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এতে নদীর বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানির স্রোত এসে আঘাত হানছে নদীর পশ্চিম পাড়ে তীর সংরক্ষণ এলাকায়। এতে পলাশপুর এলাকায় দুটি স্থানে বেশ কিছু এলাকা নদীতে ধসে পড়েছে।

সরকারি ইজারার বাইরেও কাজিপুরে প্রায় ৩৫-৪০টি বালুর পয়েন্ট রয়েছে। এসব পয়েন্ট ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সরকার পতনের পর এসব বালুর পয়েন্ট এখন, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিদিন এসব বালুর পয়েন্ট থেকে শত শত ট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে। বিএনপির কোন নেতার নামে বালু মহাল ইজারা নাই বলেও জানান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালে কাজিপুরে যমুনা নদীর পশ্চিম অংশে তীর সংরক্ষণ কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাথরের ব্লক আর বালির বস্তা দিয়ে নদীর পশ্চিম তীর বেঁধে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে কাজ শেষ হয়। চলতি শুষ্ক মৌসুমে গত শুক্রবার রাতে দুটি স্থানে বেশ কিছু অংশ নদীতে ধসে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বাঁধ ভাঙা আতংক বিরাজ করছে। হুমকির মধ্যে পড়েছে মেঘাই বাঁধ, ফসলি জমিসহ বেশ কিছু স্থাপনা। বর্ষা মৌসুম আসার আগেই যমুনা নদীর পশ্চিম তীর সংরক্ষণ এলাকা ধসে যাওয়ায় তারা এখন শঙ্কিত।

পলাশপুর গ্রামের মোমেনা খাতুন, আয়শা খাতুন, জোবেদা বেগম বলেন, জমিজমা যা ছিল তা অধিকাংশ নদী মধ্যে চলে গেছে। যাওয়ার কোনো জায়গা নাই। নদীতে তো এখন বেশি পানি নাই। তারপরও গত দুইদিন আগে দুই জায়গায় ভেঙে গেছে। সারা বছর এই এলাকা থেকে বালু তুলছে। নিষেধ করার কোনো লোক নাই। আমাদের বাড়ির সামনে থেকে সারা বছরই বালু তোলা হয়েছে। যতটুকু জানি এই এলাকায় কোনা বালু মহাল হজারা নাই। তারপরও বালু তোলা হলো কেউ বন্ধ করলো না। শুক্রবার যেভাবে নদীর তীর নদীতে ধসে পড়লো তাতে মনে হচ্ছে এবার আমার বাড়ি আর থাকবে না।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, বাঁধ, গ্যাস পাইপ লাইন ও ব্রিজ এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না। এসব প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটার দূর থেকে বালু উত্তোলন করতে হবে। আমরা বলেছি ইজারাকৃত এলাকার বাইরে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি। জরিমানা করেছি। আমরা কাউকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেবো না।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, কাজিপুরে ধসে যাওয়া স্থানে বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে। আতংক হওয়ার কিছু নাই। নদীতে বৈধ ও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন হয়। যারা অবৈধ ভাবে বালু তুলছেন আমরা জানতে পারলে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দিচ্ছি। বাঁধের ক্ষতি করে কেউ বালু তুলতে পারবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com